ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের আকস্মিক পদত্যাগ, উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের আকস্মিক পদত্যাগ, উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা

ফন্ট সাইজ:

আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’ (বিআই)-এর গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো। এতে তার এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ওয়ারজিয়োর পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট প্রবায়ো সুবিয়ান্তো গ্রহণ করেছেন বলে রাজধানী জাকার্তায় আর্থিক বাজার খোলার আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান রাষ্ট্র সচিবালয়মন্ত্রী প্রসেতিও হাদি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া (বিআই)-এর জ্যেষ্ঠ ডেপুটি গভর্নর দেস্ত্রি দামায়ান্তিকে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণেই ওয়ারজিয়ো পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগের ঘোষণার পরদিন সকালে লেনদেনের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ০.১৪ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ১৭,৯৬০ রুপিয়ায় নেমে যায়। একই সময়ে প্রধান শেয়ার সূচক প্রথমে ০.৬৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ০.২৬ শতাংশ বেড়ে যায়। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আলেথেইয়া ক্যাপিটাল-এর আসিয়ান বিশেষজ্ঞ অ্যাঙ্গাস ম্যাকিনটোশ বলেন, পেরি ওয়ারজিয়োর পদত্যাগ বাজার সম্ভবত নেতিবাচকভাবে নেবে। কারণ তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ ও স্থিতিশীল নেতৃত্বের প্রতীক এবং তার ভালো কর্মদক্ষতার রেকর্ড ছিল। তিনি আরও বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন। আপাতত জ্যেষ্ঠ ডেপুটি গভর্নর দেস্ত্রি দায়িত্ব নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট প্রবায়োর ভাতিজা থমাস জিওয়ানদোনো বর্তমানে ডেপুটি গভর্নর। তিনি যদি স্থায়ীভাবে এই পদে আসেন, তাহলে বাজার সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখবে। কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল পদ এবং ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীন থাকা উচিত।

প্রসেতিও হাদি জানান, ওয়ারজিয়ো প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ারজিয়োর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পেরি ওয়ারজিয়ো প্রথমবার ২০১৮ সালে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০২৩ সালে তাকে দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদে পুনঃনিয়োগ করা হয়। প্রেসিডেন্ট প্রবায়ো সুবিয়ান্তোর উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে সহায়তা দেয়ার জন্য সম্প্রতি ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছিল। একই সময়ে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জুন মাসে রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট একটি বিস্তৃত আইন পাস করে। সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীন আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক সুপারিশ দেয়ার ক্ষমতাও আইনপ্রণেতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। পদত্যাগের ঘোষণার পর সাংবাদিকদের দেস্ত্রি দামায়ান্তি বলেন, ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া রুপিয়াহ ও আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে প্রবৃদ্ধির অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ চালিয়ে যাবে।

গত সপ্তাহে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া বাজারকে বিস্মিত করে নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। তবে রুপিয়াহকে সহায়তা করতে বিদেশি মূলধন আকর্ষণের জন্য নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করে। এর আগে মে মাস থেকে রুপিয়াহকে শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়েছিল। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মিরায়ে অ্যাসেট সেকুরিটাস এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ওয়ারজিয়োর উত্তরসূরি হিসেবে সরকার কাকে বেছে নেয় এবং তার ফলে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রানীতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামগ্রিক নীতিনির্ধারণে কী প্রভাব পড়ে- এ বিষয়গুলো এখন আর্থিক বাজারের প্রধান নজরকাড়া ইস্যু হয়ে উঠবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন