সাবেক দুই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে সংঘটিত গণহত্যা, গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল ‘বাংলাদেশ আজাদি পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামে দু’টি সংগঠন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পৃথক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়। এ বিষয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে এক ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তা প্রথমে রেজিস্ট্রারভুক্ত করা হয়। এরপর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়। তদন্ত সংস্থা অভিযোগটি তদন্তযোগ্য মনে করলে সেটি রেজিস্ট্রারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।

তিনি বলেন, অভিযোগ জমা পড়লেই কাউকে অভিযুক্ত বা আসামি বলা যায় না; তদন্ত শুরু হওয়ার পরই সে ধরনের আইনি অবস্থান তৈরি হয়। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত এত লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনোদিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এই দুই প্রেসিডেন্ট। এসব অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল। এ ছাড়া, আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, একে একে জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- সব ঘটনার সময় এই দু’জন ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন।

তৎকালীন সময়ের প্রেসিডেন্টরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ওই ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন। এই দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না। এদিকে, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের সংগঠন শুধু সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেছেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে গত বছরের ১৮ই জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯শে জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন