শাল্লায় ১৮১৮ সালের খোদাইকৃত ঐতিহাসিক সীমানা পিলার উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রাম থেকে ১৮১৮ সালের খোদাইকৃত একটি ঐতিহাসিক সীমানা পিলার সদৃশ লোহাজাতীয় বস্তু উদ্ধার করেছে শাল্লা থানা পুলিশ। গতকাল উদ্ধার হওয়া বস্তুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং এটি কীভাবে সেখানে এলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে দৌলতপুর গ্রামে গঠিত মাদকবিরোধী আন্দোলন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রুপ মিয়া ওরফে রুক্কিয়ার (৫০) বাড়ির পাশে অভিযান চালান। তাদের ধারণা ছিলÑ সেখানে মাদকের একটি চালান মজুত রয়েছে।

তবে সেখানে মাদক না পেলেও ১৮১৮ সাল এবং ‘ডবংঃ ওহফরধ’ খোদাইকৃত একটি প্রাচীন সীমানা পিলার সদৃশ বস্তু দেখতে পান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রুপ মিয়া বস্তুটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. আব্দুল হেকিমের হেফাজতে রাখা হয়। রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাম আরেফিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য নূরুল হক ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আব্দুল হেকিমের বাড়ি থেকে বস্তুটি জব্দ তালিকামূলে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নূরুল হক বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রুপ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মাদকের সন্ধানে গিয়ে আমরা এই প্রাচীন পিলারটি দেখতে পাই। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা এসআই মো. শওকত আলী বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি জব্দ তালিকামূলে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত বস্তুটি আদালতে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে এর প্রকৃত পরিচয়, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং কীভাবে এটি সেখানে এলোÑ সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি প্রাচীন একটি সীমানা পিলার হতে পারে। তবে এটি সত্যিই বৃটিশ আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন কি নাÑ তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন