মাঠে ফিরেই আলোচনায় নেইমার

জোড়া গোল, পোকার উদ্‌যাপন ও নিষেধাজ্ঞা

মাঠে ফিরেই আলোচনায় নেইমার

ফন্ট সাইজ:

ব্রাজিলকে কোণঠাসা করে রাখা বিশ্বকাপ-হতাশা পেছনে ফেলে মাঠে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের ক্ষত তাজা থাকতেই সান্তোসের জার্সিতে মাঠে নামলেন তিনি। তবে ক্লাব ফুটবলে ফিরেও নাটকীয়তা থেকে রেহাই পেলেন না ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’-র পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দল শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সান্তোসকে। প্রায় ২০ দিন পর মাঠে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন নেইমার। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে সতীর্থের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করে চোখ জুড়ানো কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। তবে এই গোলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে তার উদযাপনের ধরন।

কিছুদিন আগে সান্তোসের ম্যাচ চলাকালীন একটি প্রফেশনাল পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন নেইমার। গোলের পর তাস বাঁটার সেই পরিচিত ভঙ্গিতেই সমালোচকদের কড়া জবাব দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও বিরতির পর খেই হারিয়ে ফেলে সান্তোস। ম্যাচের ৬২ মিনিটে এক আত্মঘাতী গোলসহ পরপর দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। অবনমন অঞ্চলে থাকা শাপেকোয়েন্সের মতো দলের এমন পারফরম্যান্স স্তব্ধ করে দেয় স্বাগতিকদের। ম্যাচের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তাপ বাড়ে। মেজাজ হারিয়ে শাপেকোয়েন্সের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দেন নেইমার।

পরিস্থিতি সামলাতে রেফারি এগিয়ে এলে অপর এক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গেও তর্কে জড়ান তিনি। ফলস্বরূপ রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। আগের একটি হলুদ কার্ডের খড়গ থাকায় এই হলুদ কার্ডে কপাল পড়ে নেইমারের। ফলে সান্তোসের পরবর্তী ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে অ্যাটলেটিকো পারানায়েন্সের বিপক্ষে মাঠে নামা হচ্ছে না তার। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত নাটক। ৯০ মিনিটে পেনাল্টি পায় সান্তোস। ঠিক যেভাবে বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে নরওয়ের বিপক্ষে স্পট কিক থেকে গোল করেছিলেন, ঠিক তেমনি ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান নেইমার। এই ড্রয়ের ফলে ২২পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘এ’ টেবিলের ১৪তম অবস্থানে উঠেছে সান্তোস। তবুও রেলিগেশন বা অবনমন জোনের কাছাকাছিই আছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ক্লাবটি। অন্যদিকে, মাত্র ১০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা শাপেকোয়েন্সের জন্য এটি একটি মূল্যবান পয়েন্ট হলেও, অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে তাদের পথ আরও কঠিন হলো।

পোকার নিয়ে কী ঘটেছিল
বিশ্বকাপের পরপর সান্তোসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোপা সুদামেরিকানা ম্যাচের সময় দলের সঙ্গে ছিলেন না নেইমার। সে সময়ে তাকে সাও পাওলোর একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ায় চারপাশ থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। তখন পোকার টেবিলের একটি হাসিমুখের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে নেইমার লেখেন, ‘জীবন একটা’। ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-১ গোলের বড় জয়ের দিন এই পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার, যা নিয়ে ফুটবল মহলে তার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে নেইমারের অনুপস্থিতির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হয়। সান্তোস কোচ কুকা জানান, বিশ্বকাপের পর নেইমারকে পর্যাপ্ত কন্ডিশনিং ও বিশ্রামের সুযোগ দিতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ থেকে বিরত রেখে তাকে সামনে টানা চার ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেই চার ম্যাচের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করলেন সেলেসাও মহাতারকা। তবে একটি হলুদ কার্ডে পরের ম্যাচের জন্য কপাল পুড়লো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন