কক্সবাজারে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। ঘোষণা দিয়ে পালন করছে একের পর এক কর্মসূচি। প্রথমে উখিয়ায় সংগঠনটির ইউনিয়ন কমিটির ব্যানারে বড়সড় কর্মী সমাবেশ করেছে। এরপর ঘোষণা দিয়ে মোটরবাইক শোডাউন করেছে রামু উপজেলা ছাত্রলীগ। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। পুলিশ বলছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান করছে।
জানা যায়, প্রথম কর্মিসভার সূত্রপাত হয় উখিয়া পালংখালীতে। শনিবার বিকালে উখিয়া উপজেলার আওতাধীন পালংখালী ইউনিয়নের ছাত্রলীগ কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে অনলাইনে যুক্ত হন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইনান, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান, উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সরকার দলীয় সংগঠনগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক পালংখালী স্টেশনে বিক্ষোভ করে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ দেশকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দাবি জানান।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রামুতে মোটরবাইক শোডাউন করার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য ঘোষণা দেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসেন। ঘোষণার পরদিন গতকাল মোটরবাইক শোডাউন করেছে রামু উপজেলা ছাত্রলীগ। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার পর টনক নড়েছে রামু থানা পুলিশের। তারা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। উপজেলার শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য মিছিল সমাবেশ করার ক্ষমতা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেই। চোরাগোপ্তা মিছিল সমাবেশ করলে পুলিশ কেন, কারও কিছু করার থাকে না। তিনি আরও বলেন, রামুতে এটাই ছাত্রলীগের প্রথম এবং শেষ মিছিল। এখানে আর কোনো ধরনের মিছিল সমাবেশ করতে পারবে না ছাত্রলীগ। এদিকে পুলিশের ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসেন। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছাত্রলীগের খেলা সবেমাত্র শুরু, শেষ কোথায় তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
