আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ নেই স্থায়ী সমাধান

তিস্তায় ভাঙন

আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ নেই স্থায়ী সমাধান

ফন্ট সাইজ:

তিস্তায় ভাঙন। আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ। নেই স্থায়ী সমাধান। বসতবাড়ি, আবাদি জমি চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে। নিঃস্ব হচ্ছেন তিস্তাপাড়বাসী। বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ব্লক ধসে নদীতে চলে গেছে। এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, সড়কসহ বসতবাড়ি। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতে জিও ব্যাগ ফেললেও নদীপাড়ে আতঙ্ক কাটেনি। ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

জানা যায়, উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীর সংরক্ষিত ডান তীরে ভাঙন দেখা যায়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ মিটার অংশের ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, সড়ক, বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং শহর রক্ষার গ্রোয়েন বাঁধও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। খবর পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকায় জিও ব্যাগ ফেললে বাঁধের ভাঙন কিছুটা কমে যায়। অপরদিকে চলতি বছর তিস্তার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা। ইতিমধ্যে দুই গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, রাস্তা ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আতঙ্কে দিন কাটছে দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের। কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা সাদেকুল মিয়া ও আল ইমরান বলেন, নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হওয়ায় তিস্তার ডান ও বাম দুই তীরের ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই বর্ষায় নদী উজানের পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে পানির চাপ নদীর দুই তীরে গিয়ে পড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে বাঁধ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা গেছে। তিস্তায় পলি পড়ে বড় বড় চর তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পানি কমার সঙ্গে এসব তীরে আঘাত আসছে। ইতিমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারী পাড়া ও ৭নং ওয়ার্ডের বাগডোহরা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে কাজ করছে।

রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, আমিসহ আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে ও রাজপথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দাবি জানানো হয়েছে। দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর মানুষকে সর্বস্ব হারা হতে হবে না। মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে। আমি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন