একটি ব্রিজের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ

একটি ব্রিজের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫ বছর থেকে একটি ব্রিজ দেবে আছে। তৎকালীন সময় পাহাড়ি ঢলে ফানাই নদীর উপর অবস্থিত ওই ‘ফুট ব্রিজটি’র নিচের মাটি সরে যায়। দেবে যাওয়ার ফলে দীর্ঘ ৫ বছর থেকে তীরবর্তী দুইপাড়ের ৭-৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। স্থানীয় এলজিইডি অফিস থেকে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর অংশকে মিলিত করেছে ব্রিজটি। জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফানাই নদীর কর্মধা থেকে ভূকশিমল পর্যন্ত খনন কাজ করে। খনন কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হয়।

ওই বছরের আগস্টে ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক পাহাড়ি ঢল নামে এবং ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে পাহাড়ি ঢলে ও ব্রিজের পাশ থেকে দুষ্কৃতকারীরা বালু উত্তোলন করায় ব্রিজটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে ব্রিজটি যেকোনো সময় পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার উম্মর আলী, কর্মধা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অজয় চন্দ্র দেব, লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আলাউদ্দিন কবির, কুলাউড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রাহেল মিয়া, মুরব্বি রেনু মিয়া বলেন, স্থানীয় রাঙ্গিছড়া বাজার, মিশন স্কুল, অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়, বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর কাদির বক্স (র.) মাদ্রাসা, হাসিমপুর ও লক্ষ্মীপুর প্রাইমারি স্কুলে শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এ ছাড়াও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের।

কৃষিজাত উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতেও ভোগান্তির শেষ নেই। এদিকে গত ২৫শে জুলাই স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিনিধিদল গণস্বাক্ষরিত আবেদন নিয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শওকতুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে দুর্ভোগের কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এলজিইডি জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন এবং জনগুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিজটি নির্মাণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি নির্মাণে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শিগগিরই সংসদ সদস্য মহোদয়ের সুপারিশসহ ঊর্ধ্বতন দপ্তরে নতুনভাবে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আশাবাদী প্রস্তাবনা অনুমোদন হলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ নিরসন হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন