মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মার চরাঞ্চলে মানসিক ও বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্থানীয় তিন ব্যক্তি বিচার করার কথা বলে ভুক্তভোগীর পিতাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। রোববার এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় উল্লেখিত চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মোল্লাডাঙ্গি এলাকার জাবেদ ফকিরের ছেলে সাগর ফকির (২৭), হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা এলাকার শেখ শাহজাহানের ছেলে মো. বাবু (৪০), মহা খাঁ’র ছেলে শাহা খাঁ (৪৫) এবং শেখ জনার ছেলে মিঠু (৩২)। মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর পিতা অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ে বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী। বিবাহিত হলেও স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য না হওয়ায় বর্তমানে পিতার বাড়িতে বসবাস করছেন। বিভিন্ন সময় আসামি সাগর ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
গত ২৩শে জুলাই বিকাল ৪টার দিকে বাড়ির সামনে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটার সময় সাগর তাকে মুখ চেপে ধরে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু ঘটনাস্থলে গিয়ে সাগরকে আটক করে ভুক্তভোগীসহ আসামি মিঠুর বাড়িতে নিয়ে যায়। বাদী বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গেলে তার মেয়ে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। সেখানে বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু অভিযুক্ত সাগরের বিচার করে দেবে বলে সময় নিলেও সাগরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ২৪শে জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাবু, শাহা খাঁ ও মিঠু বাদীর বাড়িতে এসে তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বলে বিষয়টি আমরা মীমাংসা করে দিয়েছি।
বাদী তখন টাকা না নিয়ে তাদেরকে বিচার মানি না বললে তারা তাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
