নতুন বাস্তবতায় পুঁজিবাজার সংস্কার এখন সময়ের দাবি

ফন্ট সাইজ:

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির গতি মন্থর করে দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের অভিন্ন মত হলো- শুধু ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর ভরসা করলে কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্ভব নয়। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে পরিপূরক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও অবকাঠামো অর্থায়নের বড় অংশই আসে পুঁজিবাজার থেকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর, স্বচ্ছ, গভীর ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠলে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ সহজ হবে, ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার এই দুই খাতকেই সমানভাবে শক্তিশালী করতে হবে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি একটি গভীর ও কার্যকর পুঁজিবাজার অপরিহার্য।

সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নীতিগত সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন কমিশনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। এ জন্য বাজার তদারকি আধুনিকীকরণ, কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিতকরণ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার লেনদেনের বাজার হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফরম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ভালো ও বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে কমিশন কাজ করছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর)-এর চেয়ারপারসন এবং ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বলেছেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার ছাড়া টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। দেশীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জনের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে করপোরেট বন্ড বাজার, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বাজারে আস্থা ফিরলে দেশীয় সঞ্চয় উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে রূপ নেবে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারকে প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।
ব্যাংক মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়নের জন্য উপযুক্ত, কিন্তু বড় শিল্প, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অর্থায়নে পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন