বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র মঞ্চে একক সংগীতানুষ্ঠান করলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। শুক্রবার সন্ধ্যার এই আয়োজনে রুনা লায়লা এলেন, গান গাইলেন ও শ্রোতাদের হৃদয় জয় করলেন। একইসঙ্গে তার বর্ণাঢ্য সংগীতসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র যৌথ আয়োজনে এদিন সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা।
করতালির মধ্যদিয়ে তাকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক সংগীতসহ মোট ১০টি গান পরিবেশন করেন এই শিল্পী। এই পুরো সময়টায় সুরের ইন্দ্রজালে দর্শকদের বন্দি করে রাখেন রুনা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, শিল্পকলা একাডেমি’র মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
শিল্পকলা একাডেমি’র মঞ্চে প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, আমার সংগীতজীবনের পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে এত বছর মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও দোয়া। আমার জীবন ধন্য। গান আর স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে দুই-তিনবার গান গেয়েছি, তবে একক কনসার্ট এবারই প্রথম। দর্শকদের এই ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে। আয়োজকরা জানান, এই অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়া হবে। যা সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ব্যবহৃত হবে।
