ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভস্থলে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (এফআরএস) ক্যামেরা স্থাপন করেছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে সমাজবিরোধী ও অপরাধী চক্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে হাজারো মানুষ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছেন। তাদের মূল দাবি, এনইইটি (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
পুলিশ সূত্রের দাবি, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য সাধারণ বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করা নয়; বরং যেসব পলাতক বা অভিযুক্ত অপরাধী বিক্ষোভে মিশে থাকতে পারে, তাদের চিহ্নিত করা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এফআরএস ক্যামেরাগুলো বিক্ষোভস্থলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা তাৎক্ষণিকভাবে মুখাবয়ব শনাক্ত করে পুলিশের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআই’কে বলেছেন, কোনো পলাতক অভিযুক্তকে শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটকে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা হবে এবং বিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, এই ব্যবস্থা প্রতিরোধমূলক ও তদন্ত- উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর। এর মাধ্যমে আমরা এমন সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে পারব, যারা বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে।
পুলিশের তথ্যমতে, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ক্যামেরাগুলো দূর থেকে উচ্চমানের মুখাবয়বের ছবি ধারণ করতে সক্ষম এবং পরে তা পুলিশের অপরাধী ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
গত ২০ জুলাই বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তি লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়েছে।
এদিকে শুক্রবার সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সিজেপির নেতা অশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকার আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত তাকে অপসারণ করবে। এছাড়া আত্মহত্যা করা এনইইটি পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও আইনি মামলা প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে সরকার নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে।
তবে সরকারের শীর্ষ সূত্রগুলো এনডিটিভি’কে জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং বিজেপি তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
