আন্দোলনের মাঝেই আজ দুপুরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা তেলাপোকা পার্টির প্রতিনিধিদের

আন্দোলনের মাঝেই আজ দুপুরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা তেলাপোকা পার্টির প্রতিনিধিদের

ফন্ট সাইজ:

ভারত ব্যাপী আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) তথা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সিজেপি।

এই আবহে শুক্রবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় এই বৈঠকটি হওয়ার কথা। প্রসঙ্গত, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে নয়, নিরপেক্ষ জায়গায় বৈঠকে বসার দাবি জানিয়েছিল সিজেপি। সেই কথা মাথায় রেখেই বৈঠকের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

বৈঠকে দু’পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে কারা থাকবেন, আনুষ্ঠানিক ভাবে তা এখনও জানানো হয়নি। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস শুক্রবার সকালে বলেন, আমাদের প্রতিবাদ চলবে। সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাবকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি যে, মুক্ত ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। সিজেপি-র আর এক মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম দিন থেকে আমরা আমাদের দাবিগুলিতে অনড়। সেগুলির কথাই সরকারকে জানাব।

অবশ্য ইতিমধ্যেই ভারত সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অন্য প্রধান দুটি দাবি মেনে নিয়েছে। সোনম ওয়াংচুককে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০শে জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীসহ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। সরকার জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে আত্মহত্যায় মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনশণ ভাঙ্গার কারণ হিসেবে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, কেন্দ্র তাকে আশ্বাস দিয়েছে যে সংসদে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সংসদে পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বৃহত্তর পরীক্ষা সংস্কার নিয়েও আলোচনা হবে।

শুক্রবার সকাল থেকে যন্তর মন্তরে তরুণ তরুণীদের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকেও ছাত্ররা দিল্লি এসেছেন আন্দোলনে যোগ দিতে। গোটা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ওে আধাসামনিরক বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি এদিনও দিল্লি মেট্রো রেলের ১৭ টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না-করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের প্রতিবাদ চলবে।

এদিকে, বৃহষ্পতিবার মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়ো পোস্ট করে জানান, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করে নিট-কাণ্ডের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য খসড়া বিল তৈরি করেছে সরকার। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আগামী সোমবার সেই বিল সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য এটি কষ্টদায়ক।’ তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন