ঘরে চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি

সহযোগীদের খবর

ঘরে চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘ঘরে চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে সংকট তীব্র হয়েছে। নতুন করে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে আবাসিক ও পরিবহন খাতে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। দেশের অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তৈরি হচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। গত মঙ্গলবারের আগে ১৫০ কোটি ঘনফুটের মতো পাওয়া গেলেও টার্মিনাল দুর্ঘটনায় বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে। এ কারণে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক– সব খাতেই সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। মগবাজারের বাসিন্দা নাসরিন জাহান বলেন, ‘এমনিতেই দিনের বেলা গ্যাসের চাপ কম থাকে। তাই রাতে বেশির ভাগ রান্না করা হয়। তবে বুধবার থেকে দিনের বেলায় একদমই চুলা জ্বলছে না। সকালে নাশতা তৈরি করতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করার পর চুলা জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।’ কাজীপাড়ার বাসিন্দা মনজুরুল সরকার বলেন, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক ওভেনে খাবার গরম করে খেতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটে পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অচলাবস্থা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ এতই কম যে গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। স্টেশনগুলোর সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

হাজীপাড়া এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দিনের বেলায় প্রায় শূন্যে নেমে আসে। গ্যাসের চাপ ৫ পিএসআইর নিচে নেমে গেলে কার্যত গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না। এখন অধিকাংশ সময়ই সেই অবস্থা থাকে।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ ১ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবহন খাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকা জেলা সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনের বড় একটি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে। গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালক দৈনিক জমার টাকাও তুলতে পারছেন না। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বাইরেও একই রকম চিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক সময়ের ১২ থেকে ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে অনেক সিএনজি স্টেশনে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। পাম্পে ভোর থেকেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, এলএনজি সরবরাহ সংকট ও পাইপলাইনের কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৮টিতেই গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত সরবরাহ থাকায় সেখানে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

টার্মিনালে ত্রুটির কারণ শনাক্ত হয়নি

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা ত্রুটির কারণ শনাক্ত করতে না পারায় টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনছে। তাদের পরিদর্শনের পর নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে, মেরামতে কত সময় লাগবে এবং কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

প্রথম আলো

‘আজকালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব তৎপরতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দ্রুতই হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটা আজ শুক্রবার বিকেল বা কাল শনিবারও হতে পারে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মুঠোফোন নম্বরে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল রাত ১০টা ২৩ মিনিটে প্রকাশ করা এক খবরে বলেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করবেন। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

গতকাল দিনভর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল। বিএনপির নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা ছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।

এ দিকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ব্যাপারে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্পিকার দেশে ফেরার পর তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর সময় দরকার বলে জানানো হয়েছে—এমন কথাও সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনায় রয়েছে। তাই আজ বিকেল বা আগামীকাল শনিবারের মধ্যে সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে গতকাল আলোচনা জোরদার হয়েছে।

গতকাল সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গেছেন। সফরসূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা। তবে তার আগেই তিনি ফিরছেন। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

স্পিকারের সফর সংক্ষিপ্ত করার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটা কোনো সূত্র স্পষ্ট করে বলেনি। তবে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার কথা। গতকাল দিনভর বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন।

কে হবেন সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম ঘুরে বেড়ালেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। গত দুই দিনে এই প্রতিবেদক বিএনপির অন্তত পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন, যাঁরা মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকেন। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। অবশ্য এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই অবগত নন বলে জানা গেছে; এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা উসখুসও রয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছেন না।

এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে হঠাৎ করেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাসের জন্য হাহাকার’। খবরে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু না হওয়ায় সারা দেশে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, রেস্টুরেন্ট-সর্বত্র গ্যাসের জন্য হাহাকার। গ্যাসের অভাবে বৃহস্পতিবার রাজধানীর আশপাশের এলাকার শত শত শিল্পকারখানা ঠিকমতো উৎপাদন করতে পারেনি। আর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার বাসাবাড়ির বাসিন্দাদের। দিনে-রাতে সামান্য গ্যাস আসেনি চুলায়। তাই রান্নাও হয়নি।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এফএসআরইউ-এর মেরামত শুক্রবারের (আজ) মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। যদি তা হয়, তাহলে এদিন সন্ধ্যা বা রাত নাগাদ টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হতে পারে। এ তথ্য এফএসআরইউ-এর অপারেটর এক্সিলারেট এনার্জি পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভাসমান টার্মিনালটি মেরামতের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যুক্তরাজ্য থেকে বৃহস্পতিবার দুজন প্রকৌশলী এসেছেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে শর্ট সার্কিট থেকে এক্সিলারেটের এফএসআরইউতে আগুন লাগলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট কমে যায়।

দেশে প্রতিদিন ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুট। এখন সরবরাহ নেমে এসেছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। এ কারণে সারা দেশে গ্যাসের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এফএসআরইউ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিন্তু ততদিনে দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদনে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এদিকে গ্যাস সংকটে সারা দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে। তাই বৃষ্টির মধ্যেও অনেক এলাকায় লোডশেডিং চলছে।

রাজধানীর মধুবাগ এলাকার গৃহিণী উম্মে হাবিবা জানান, আগে তার বাসায় সব সময় গ্যাস থাকত। কিন্তু দুই দিন ধরে চুলায় গ্যাস থাকছে না। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন তিনি। কারণ, ছোট বাচ্চার খাবার দোকানে পাওয়া যায় না।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা শামসুর রহমান জানান, তার বাসায় তিনদিন ধরে গ্যাস নেই। কবে আসবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। উপায় না দেখে তিনি এলপিজির চুলা বসিয়েছেন। তার প্রশ্ন-তিতাসকে গ্যাসের বিলও দিতে হবে আবার এলপিজির সিলিন্ডারও কিনতে হবে। এভাবে একটা দেশ কী করে চলে? বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার পিনাক্যাল রিফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন একেবারে বন্ধ। তবে পেট্রোল পাম্প চালু আছে। সেখানে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। পিনাক্যালের এক কর্মচারী জানান, সর্বশেষ বুধবার রাতে তার রিফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাস এসেছিল। এরপর স্টেশনে কোনো গ্যাস আসেনি। সারা দিন অলস বসে আছেন। গাড়ি এসে ফিরে যাচ্ছে।

কাওরান বাজার এলাকার বাংলাদেশ-কানাডা রিফুয়েলিং স্টেশনে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছেন থ্রি-হুইলারচালক আব্দুল হামিদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘গ্যাসের ভয়াবহ সংকট। রাজধানীর কোনো পাম্পে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কাওরান বাজারের এই স্টেশনে এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। এখানে মাঝেমধ্যে কিছু গাড়িকে গ্যাস দেওয়া হয়। আবার চাপ চলে যায়। এই স্টেশনে গাড়ির লাইন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মচারীরা।’ গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজিচালিত অনেক অটোরিকশাকে বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এ কারণে সারা দিন রাজধানীর রাস্তায় সিএনজিচালিত আটোরিকশার চালাচল কম ছিল। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শত শত শিল্পকারখানা। তিতাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপ বললে কম বলা হবে। কোথাও গ্যাস নেই। বিশেষ করে আশুলিয়া, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অনেক কম। অনেক শিল্পকারখানা সারা দিন (বৃহস্পতিবার) বসে ছিল। এভাবে তো শিল্প চলে না। দেশ চলে না।’

ত্রুটিমুক্ত হচ্ছে টার্মিনাল: পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল-এর কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর বিদেশ থেকে ৫/৬ জন বিশেষজ্ঞ এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুইজন প্রকৌশলী এসেছেন। টার্মিনালের প্রাথমিক ত্রুটি সারানো হয়েছে। শুক্রবার (আজ) আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিকাল নাগাদ চালু হতে পারে।

কালের কণ্ঠ


‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আজই’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও বঙ্গভবন সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে—‘তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগ করবেন।’

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, পদত্যাগপত্র প্রস্তুত, আজ শুক্রবার বিকেলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ দুপুরে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—কয়েক দিন ধরে এমন আলোচনার প্রেক্ষাপটে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন তা নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দল ও সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেও মির্জা ফখরুলের নাম তালিকার শীর্ষে। মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে তিনি হবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের অনুগত এবং দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে তাঁকেই বিবেচনা করা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক মনোভাব এবং বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তাঁকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

দল-মত-নির্বিশেষে তিনি একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান এমপি ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের দলের প্রতি আনুগত্য, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে। কমিটমেন্ট রয়েছে। দলের বাইরে অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামটিও দলের হাইকমান্ডের তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় একটি সূত্র জানায়।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।’

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো নাকচ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। এগুলো গল্পকাহিনি। পৃথিবী এখন এত ছোট হয়ে গেছে যে ফোন করার জন্য লন্ডন যেতে হয় না। এখান থেকেই যে কেউ কথা বলতে পারেন। মানুষ গল্প বানাচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এমপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। এগুলো সব গুজব।’

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে অথবা একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইত্তেফাক

‘পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি লন্ডনে অবস্থানকালে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোন আলাপের আলোচনার মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর এলো। এ ব্যাপারে বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। চিকিত্সার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রবিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতি তার কাছে পদত্যাগপত্র দিতে পারেন বলে জানা গেছে। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে স্বাস্থ্যগত কারণে অথবা যে কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেটা অপশন আছে, তবে পদত্যাগের বিষয়ে আমরা জানি না। পদত্যাগের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ কি জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো পদক্ষেপ এখানে নেই। গণমাধ্যমে ‘পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে’ লেখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কি না- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেটা উনাকে জিগ্যেস করতে হবে। তিনি চিকিত্সার জন্য কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা হয়েছে সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের। ইত্তেফাককে হেলাল উদ্দিন বলেন, একটি ফেসবুক স্টাটাসের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতি তাকে ফোন করেছিলেন। তখন রাষ্ট্রপতি তাকে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার খবর একেবারেই সত্যি না। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন, কেউ প্রমাণ করতে পারলে জনগণের যে কোনো রায় তিনি মেনে নেবেন। তবে বিএনপির তরফ থেকে তার কাছে পদত্যাগের বার্তা এসেছে বলে স্বীকার করেছেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয় বলে জানিয়েছেন। কবে নাগাদ পদত্যাগ করবেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। সেটা হয়তো আগামী রবিবার হতে পারে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, চিকিত্সার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডে গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সূচি অনুযায়ী তার ২৬ তারিখ অর্থাত্ রবিবার ফেরার কথা। তবে তার আগেই তিনি ফিরতে পারেন বলে আলোচনা হলেও স্পিকারের দপ্তর থেকে ইত্তেফাককে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের কাছে আগে ফেরার কোন বার্তা নেই। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. নূরুল আমীন গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে এখনো স্বাক্ষর করেননি। পদত্যগ করলে জানানো হবে। সূত্রগুলো বলছে, স্পিকার দেশে না থাকায় চাইলেও এখনই পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারছেন না রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগটা যার কাছে করবেন তিনি নিজেও দেশে নাই। সুতরাং এখন পদত্যাগের সুযোগও নেই। তিনি ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে গতকাল সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

লন্ডনে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোন আলাপের খবর প্রচার হয় একটি ইংরেজি দৈনিকে। যদিও এই খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি দৃঢ়ভাবে এটা অস্বীকার করেছেন। এমনকি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানান। এর বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘হাসিনার সাথে ফোনালাপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারো আলোচনার কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিনি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার একটি গোপন টেলিফোন আলাপ। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য আসেনি, তবুও ঘটনাটি কেবল একজন রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য বিদায়ের খবর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থায় সাধিত হয়েছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ছিলেন সেই সময়ের একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারী, যিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।

এ কারণেই তার সম্ভাব্য পদত্যাগকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘পুরনো রাষ্ট্রব্যবস্থার শেষ প্রতীকী অধ্যায়ের সমাপ্তি’ হিসেবে দেখছেন।

স্পীকার ফিরলেই পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতির দফতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। পদত্যাগটা যার কাছে করবেন তিনি নিজেও দেশে নেই। সুতরাং এখন পদত্যাগের সুযোগও নেই। স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগপত্রে এখনো তিনি স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগ করলে জানানো হবে।

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সম্পর্কিত আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানকে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। স্পিকারের একান্ত সচিব (পিএস) রওশন কবির তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসা নেয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী রোববার তার ঢাকা ফেরার কথা ছিল। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ জরুরি বার্তায় সফর সময়সূচি এগিয়ে এনে শুক্রবারই তাকে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়।

সরকারের উচ্চ মহলের এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, আজ শুক্রবারই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা। সে অনুযায়ী স্পিকারকে তার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্পিকার শুক্রবার দেশে ফিরছেন। তিনি আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ক্ষেত্রে আরো কয়েকটি দিন সময় চেয়েছেন। তবে একইসাথে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সময়ের আবেদন করা হলেও সেটি এক সপ্তাহের বেশি হবে না। তবে রাষ্ট্রপতি যে পদত্যাগ করছেন এবং সেটি খুব শিগগির, সেটি নিশ্চিৎ।

বণিক বার্তা

‘তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, খরা ও বায়ুদূষণের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

জলবায়ু পরিবর্তনের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে আছে যেসব দেশের শিশুরা, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। বাংলাদেশ ছাড়াও উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার।

সম্প্রতি ইউনিসেফ প্রকাশিত ‘চিলড্রেন’স ক্লাইমেট রিস্ক রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীপ্লাবিত ও সমুদ্র-উপকূলবর্তী বন্যা, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, খরা, বায়ুদূষণ—জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এসব বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা।

নদীতীরবর্তী বন্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে ইউনিসেফের ঝুঁকির স্কোর দশে বাংলাদেশের স্কোর দশ। দেশের ৫০ শতাংশের বেশি শিশু এমন এলাকায় বসবাস করে, যেখানে নদীপ্লাবিত বন্যার আশঙ্কা প্রবল। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও সুরক্ষাসহ শিশুদের মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৮০ কোটি শিশু খরা এবং ১২০ কোটির বেশি শিশু চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ৬৬ কোটি ২০ লাখ শিশু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়, ৩৩ কোটি ৭০ লাখ শিশু নদীপ্লাবিত বন্যা এবং ৩ কোটি ৩০ লাখ শিশু উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশ মাত্র ১০টি দেশে বাস করে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশে প্রায় ছয় কোটি শিশু অন্তত একটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়—এ তিনটি দুর্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে দেশের ২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি শিশু সরাসরি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক, ছয় কোটি শিশু খরা ও বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশু। একইভাবে নদীসংলগ্ন বন্যার কারণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

ইউনিসেফ তাদের প্রতিবেদনে জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি ১৬০টি দেশের শিশুদের জন্য ঝুঁকি স্কোর দিয়েছে। দেখা গেছে, সামগ্রিক ঝুঁকিপ্রবণতায় বাংলাদেশের স্কোর ১০-এ ৯ দশমিক ৩৮, যা বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এ তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুদ্ধকবলিত মিয়ানমার, দেশটির স্কোর ১০-এ ১০। এছাড়া পাকিস্তানের স্কোর ৯ দশমিক ৪৯ এবং ভিয়েতনামের ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতের স্কোর ৯ দশমিক ২১, কম্বোডিয়ার ৮ দশমিক ৮৮, চীনের ৮ দশমিক ২৪।

আবার ভিন্ন দুর্যোগের ক্ষেত্রে নদীপ্লাবিত বন্যায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে স্কোর ১০-এ ১০। এছাড়া উপকূলীয় বন্যায় ৮ দশমিক ১৩, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ে স্কোর ৯ দশমিক ৭, খরায় ৯ দশমিক ৬৫, চরম তাপপ্রবাহে ৯ দশমিক ২৪, বায়ুদূষণে ৯ দশমিক ৭। তবে শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, দরিদ্রতা ও মাতৃমৃত্যু হারে বাংলাদেশের শিশুরা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজাকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘নেতাদের বিতর্কিত কাজে অস্বস্তিতে জামায়াত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের রাজনীতিতে নিজেদের পালে জোর হাওয়া পায় জামায়াতে ইসলামী। সেটা আরও বেগবান হয় জাতীয় নির্বাচনে দলটির অভূতপূর্ব সাফল্যে। কিন্তু সংসদে ও মাঠের রাজনীতিতে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন দলটির সংসদ সদস্য ও নেতারা। এতে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দু-একজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো দলকে দায় দেওয়া না গেলেও দলের ভাবমূর্তিতে এমন ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করেছেন না জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলের নীতি-আদর্শের জায়গা থেকে অন্যায়, অনিয়ম বা অনৈতিক কাজের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় নেই। কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ধরা পড়লে দল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। তাই মানুষ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখে।’

সর্বশেষ আলোচনায় সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জামায়াত জানিয়েছে, তাদের নিজেদের তদন্তে নজরুলের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে দলটি।

এর আগে নড়াইল-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর বিরুদ্ধে সাংসদের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের অনুমোদিত তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম থাকার অভিযোগ ওঠে। একই তালিকায় নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেন, তালিকা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব।

সংসদে বক্তব্য দিয়েও বিতর্কে জড়ান জামায়াতের এক সংসদ সদস্য। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে গত ১৪ জুন দেওয়া বক্তব্যে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং সংসদের কার্যবিবরণী সংশোধনের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেন।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল অন্যের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজের নাতনিকে উপহার দেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে দলের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে সাইকেলটি ফেরত দিয়ে অন্য উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের একটি সৎ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সেই ভাবমূর্তির জন্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

হাসানুজ্জামানের ভাষায়, ‘যে দলেরই হোক না কেন, জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের অনৈতিক কাজ অবশ্যই নিন্দনীয়। জনগণ তাঁদের প্রতিনিধিকে স্বচ্ছ ও সুচরিত্রের অধিকারী হিসেবে দেখতে চায়। কাজেই এটা অবশ্যই জামায়াতের ভাবমূর্তির সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’

দেশ রূপান্তর

‘কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি। জাতীয় সংসদের স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরলেই তার কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে বঙ্গভবনে প্রায় ৩ বছর চার মাসের দায়িত্বের ইতি ঘটাবেন মো. সাহাবুদ্দিন। বিষয়টি ঘটতে পারে আজ-কালের মধ্যেই।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে আসছেন তা নিয়ে এখন রাজনীতির মাঠ সরগরম। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির নাম জোরালভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে সরকার বা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করছেন না। তারা বলছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনেকগুলো সমীকরণ মাথায় রেখেই তিনি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, পদত্যাগসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে রাষ্ট্রপতি এখনো সই করেননি। একই তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। তিনি গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে সই করেননি। পদত্যাগ করলে জানানো হবে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিষয়টি অপেক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। রবিবার তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি ঢাকায় ফিরবেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। স্পিকার দেশে ফেরার পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে হলে স্পিকারের হাতে সরাসরি পদত্যাগপত্র দিতে হবে এমন কোনো বিধান সংবিধানে নেই। সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। আবার ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সূত্র জানায় মো. সাহাবুদ্দিন সরে যাওয়ার পরপরই স্পিকারকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে হয়। এ কারণেই তার দেশে ফেরার পর মো. সাহাবুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘বেড়েছে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করে এ অঞ্চলের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক সংস্থা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি)। এজন্য পাচার রোধ, অতীতে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক আইনকে আরও যুগোপযোগী করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এ ঝুঁকি কমাতে না পারলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ঋণমানে এর একটা বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে এ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তুতিমূলক ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা সরকারের খুবই উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণীদের একটি সভা। এ-সংক্রান্ত একটি টাস্কফোর্সও রয়েছে। সেই টাস্কফোর্সকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকালের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এ সভা শেষে অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে পর্যটন হাব করার বিষয়ে মিডিয়ার কাছে বিভিন্ন কথা বললেও মানি লন্ডারিং প্রসঙ্গে দুজনের কেউই কোনো কথা বলেননি। বৈঠকের কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এজন্য আগামী ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ঢাকায় আসছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সফরকালে তারা সরকারের প্রস্তুতি, আইনি কাঠামো, ঝুঁকি মূল্যায়ন, তদন্ত ও বিচারব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় পর্যালোচনা করবে। এ সফরের মাধ্যমেই ২০২৭-২৮ সালে অনুষ্ঠেয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত চতুর্থ মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রস্তুত করা জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, দেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো চলমান। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় জাতীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন, সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, এনজিও-এনপিও এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেট/ভার্চুয়াল অ্যাসেট সার্ভিস প্রোভাইডার খাতের ঝুঁকি নিরূপণ। একই সঙ্গে কোম্পানি আইনে বেনিফিসিয়ারি ওনার-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক অ্যান্ড কোম্পানিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন