মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় কী বললেন মোদি?

ভারতব্যাপী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় কী বললেন মোদি?

ফন্ট সাইজ:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন। শিক্ষাবিষয়ক ও চাকরি সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে তারা বিক্ষোভ করছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রদান করেন। এতে তিনি আশ্বাস দেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, গত আড়াই মাসে এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একটি বছরও যেন নষ্ট না হয় সে কথা মাথায় রেখে দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রস্তাবনায় তিনি ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিল পাস করার চেষ্টা করা হবে। এই উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লির রাউস এভিনিউ কোর্ট কমপ্লেক্সে একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়। নতুন এই ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট ২০২৪-এর অধীনে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার হবে, যেখানে দোষীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

চলমান আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়েও বড় রদবদল এনেছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তার স্থানে নরেশ কুমার গ্যাংওয়ারকে নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল শিক্ষা সচিব হিসেবে টি কে অনিল কুমারকে যুক্ত করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে জন্তর মন্তরে সমবেত শত শত শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বার্তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দেশের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কেবল প্রশাসনিক রদবদল চায় না, তারা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন