সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে শুনানি শেষে তাকে পুনরায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ২৩শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, সম্ভব হলে দুই মাসের মধ্যে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। এদিন, ট্রাইব্যুনালের কাছে মোজাফফর হোসেনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, গত ২১শে জুলাইয়ের পূর্ববর্তী আদেশের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেফাজত থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামি মেজর মো. মোজাফফর হোসেন (বিএসএম-১০১৭)-কে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হলো। এদিন চিফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল-২) বিধিমালা, ২০১০-এর বিধি ১৬(১) অনুযায়ী একটি আবেদন করেন। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা আবেদন উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কার্যকর তদন্তের স্বার্থে আসামিকে অন্তত দু’দিন অফিস চলাকালীন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখিত কারণসমূহ পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, কার্যকর তদন্তের জন্য এ আবেদন যৌক্তিক। পরে প্রধান প্রসিকিউটরের শুনানি শেষে আদালত দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এর আগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে একটি মিসকেসে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তারা অনুসন্ধান চালিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তার ব্যক্তিগত সহকারী এবং ‘ঝন্ডু’ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য পান। পরবর্তী তদন্তে ওই ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফর হোসেনের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত করেছেন এবং বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
