বিকল্প খুঁজলেন সিলেট মহানগর বিএনপি নেতারা

বিকল্প খুঁজলেন সিলেট মহানগর বিএনপি নেতারা

ফন্ট সাইজ:

সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর সঙ্গে ৬ থানা বিএনপি’র নেতাদের বৈঠকে রীতিমতো কম্পন চলছে সিলেট নগর 
বিএনপিতে। এ নিয়ে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ওই নেতাদের তলব করে বৈঠক করেছেন নগর নেতারা। সূত্র বলেছে, সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়ায় ৬ থানার শীর্ষ নেতাদের ‘তিরস্কার’ করা হয়। এটি সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড বলেও নগর নেতারা সতর্ক করে দেন। বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারা অভিযোগ খণ্ডন করে বলেছেন তারা ফুল দিতে প্রশাসকের ওখানে গিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে সেটি সভায় রূপ নিয়েছে। তবে তাদের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে বৈঠকে থাকা নগর বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। তাদের মতে; যে ঘটনা ঘটেছে এতে সাংগঠনিকভাবে ওই কমিটিগুলো স্থগিত করার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে সেটি করা হয়নি।

এদিকে সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনার পর ৬ থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছেন নগরের নেতারা। তারা দ্রুত ওই থানাগুলোর সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল তারা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের প্রেক্ষিতে ৬ থানা বিএনপিকে নিয়ে বিকল্প চিন্তা ভাবনা কিনা- এ নিয়ে গতকাল বিকালে নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- বিকল্প কেন হবে? এটি দলের রুটিন ওয়ার্ক। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা রয়েছে যেসব ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে সেসব ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার। যেহেতু মহানগরের অধিভুক্ত ৬ থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি অনেক আগেই গঠন করা হয়েছে সেজন্য নগর বিএনপি এখন সম্মেলন ও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ব্যাপারে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন- নগর বিএনপি’র কমিটির মেয়াদও শেষ হতে চলেছে। এই অবস্থায় ঝুলে থাকা অধিভুক্ত ইউনিটগুলোর সম্মেলন ও কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৬ থানা কমিটি ছাড়াও ঝুলে থাকা যেসব ওয়ার্ডের দলীয় কার্যক্রম আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে সেসব ওয়ার্ডেও সম্মেলন ও কাউন্সিল করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে ৬ থানা বিএনপি’র সম্মেলন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে- বুধবার রাতে নগরের জিন্দাবাজারের একটি হোটেলে ৬ থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নগর বিএনপি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সভায় সরকারের বিগত পাঁচ মাসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। শিগগিরই মহানগরীর ছয়টি থানা বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন- দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন- দলকে সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন- দলকে এগিয়ে নিতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কাজ করতে হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানা আহ্বায়ক ওলিউর রহমান চৌধুরী সুহেল ও সদস্য সচিব সোয়েব আহমদ, বিমানবন্দর থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদির সমসু ও সদস্য সচিব সৈয়দ সরোয়ার রেজা, জালালাবাদ থানা আহ্বায়ক শহীদ আহমদ ও সদস্য সচিব সুদীপ জ্যোতি এষ, শাহপরান থানা আহ্বায়ক আব্দুল মুনিম ও সদস্য সচিব খোরশেদ আহমদ খুশু, দক্ষিণ সুরমা থানা আহ্বায়ক ডা. এনামুল হক ও সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, মোগলাবাজার থানা আহ্বায়ক আবুল হাসনাত ও সদস্য সচিব জামাল আহমদ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন