এআই দিয়ে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ফাঁদ। নাস্তানাবুদ সিলেটের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি। একের পর এক অর্ধ ন্যুড ছবি। ছেড়ে দেয়া হচ্ছে নানা ওয়েব সাইটে। যা দেখে বিচলিত তিনি, বিপর্যস্তও। হার্টের রোগী পিতা। সন্তানরা বড় হচ্ছে। সবমিলিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় রাফিয়া নামলেন আইনি লড়াইয়ে। সিলেটের আদালতে করলেন মামলাও। গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে কেঁদে কেঁদে বললেন- আমি কেবল নারী নই, আমি একজন মা। আমার বাচ্চা যদি বড় হয়ে এসব বিকৃত ছবি দেখে তাহলে কি মনে করবে। আমার বাবা হার্টের রোগী, বৃদ্ধ মানুষ। তিনি তো আর বুঝবেন না এগুলো এআইয়ের মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে। সিলেটি ভাষার কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন রাফিয়া। তার নানা কনটেন্ট এরইমধ্যে ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন- এআই দিয়ে ভিডিও ও ছবি তৈরি করে চরিত্র হনন করার অপরাধে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে গত বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা গ্রহণ করে আদালত তদন্তের জন্য সিলেট নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে প্রেরণ করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে রাফিয়া অভিযোগ করেনÑ পরিকল্পিতভাবে তার ছবি বিকৃত করে ভুয়া ফটোকার্ড ও মানহানিকর পোস্ট ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২৬শে জুন থেকে ১৩ই জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তার ছবি ব্যবহার করে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে রোগে আক্রান্ত হওয়া, প্রতারণা, হানিট্র্যাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং অল্প সময়ে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার মতো অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ বলা হয়েছেÑ একটি ফেসবুক গ্রুপে বিদেশে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে তার ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও তথ্য ও ছবি প্রকাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী। আদালত প্রাঙ্গণে রাফিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে। একের পর এক পোস্ট ও ফটোকার্ড। এর কয়েকটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে ছবি। তিনি দাবি করেন, যা প্রচার করা হচ্ছে সবগুলো তথ্যই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধু তাই নয়, তার ফেসবুক আইডিতে বারবার রিপোর্ট করে কনটেন্টের স্বাভাবিক প্রচার ব্যাহত করার চেষ্টাও করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। রাফিয়ার দাবিÑ ধারাবাহিক এসব অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং তার পরিবার সামাজিক, মানসিক, আর্থিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে বাদীর আইনজীবী মো. জাবের হুসাইন জানিয়েছেন, রাফিয়ার ছবি এআই প্রযুক্তি দিয়ে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান তিনি।
