কুমিল্লায় তাজরিন সুলতানা ঝুমুর নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯শে এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝুমুর (৯) স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে ঝুমুরের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে। নিহত ঝুমুর খেয়াইশ গ্রামের প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা রাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। এ ঘটনার ৩ দিন পর র্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এ ছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে এর বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
