রাণীনগরে প্রকল্পের তথ্য দিতে কৃষি কর্মকর্তার অনীহা, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

রাণীনগরে প্রকল্পের তথ্য দিতে কৃষি কর্মকর্তার অনীহা, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়িত পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ও সুবিধাভোগী কৃষকদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তথ্য চেয়েও প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের তালিকা না পাওয়ায় সরকারি অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী (ডেমোনস্ট্রেশন) ও প্রণোদনা প্রদানের জন্য সরকার এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের নাম প্রকাশ করেনি উপজেলা কৃষি অফিস। দীর্ঘ সময় পর আংশিক কিছু তথ্য দেয়া হলেও প্রদর্শনীর সুবিধাপ্রাপ্ত কৃষকদের তালিকা গোপন রাখা হয়েছে।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যে তিনটি পার্টনার ফিল্ড স্কুলের নাম, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং কিছু সম্মানীর তথ্য থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিচয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এতে সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে কি না- তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়, প্রশিক্ষণ খাতের অর্থ এবং কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রদর্শনী বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ১৫টি প্রদর্শনের কথা বলা হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এসব বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সুবিধাভোগী কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিনি সরবরাহ করেননি। এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ভাই, আপনাদের কাজ কি এগুলো, বলেন তো? এগুলো ফোনে না বলে অফিসে আসেন, তখন কথা বলি। সব প্রশ্ন ফোনে বলা যায় না। বরাদ্দের বিষয়ে অন্য কোনো সাংবাদিক আমাকে এভাবে বলেন না, একমাত্র আপনি বলছেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবিÑ সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক; যাতে প্রকৃত কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন