সময়টা মোটেই অনুকূলে নেই নেইমার জুনিয়রের। সান্তোসের পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নেয়ার পর তার ব্রাজিল দলে ফের জায়গা হারানোর গুঞ্জন এখন প্রকট। এমন পরিস্থিতিতে জোড়া গোল করে নিজের অবস্থানের জানান দিলেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। দেশের শীর্ষ লীগ সিরি আ-তে ভাস্কো দ্য গামার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের দিন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো করে নাচলেন নেইমার। পরে জানালেন, সমালোচকদের চুপ করানো ওই ভিনিকে দেয়া কথা রাখাই সেই নাচের কারণ।
লীগে আগের তিন ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা সান্তোসের এটি নতুন মৌসুমের প্রথম জয়। টেবিলের ত্রয়োদশে থাকা ক্লাবটির ২ হার ও ১টি করে জয় এবং ড্রয়ে পয়েন্ট স্রেফ ৪। ভিলা মেলমিরোতে ২৫তম মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে যান ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। গ্যালারিকে উদ্দেশ্য করে সমালোচকদের চুপ থাকার ইশারা করেন তিনি। জাতীয় দলের সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশে দাঁড়াতেও ভোলেননি নেইমার। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে যে নাচের কারণে ভিনি বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, সেই একইভাবে নেচে গোল উদ্যাপন করেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা। ম্যাচের পর সেই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্ট করে নেইমার লেখেন, ‘নাচো, ভিনি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাচ মানেই আনন্দ ও স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ। কঠিন সময় পার করার পর এটি চাপমুক্ত হওয়ার একটি উপায়। এবং এর মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী।’ ভিনিকে উৎসর্গ করেই এই নাচ, সেটি অকপটে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘নাচটি ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য। আমি তাকে বলেছিলাম, সে যখনই গোল করবে, গালি ও বর্ণবিদ্বেষ সত্ত্বেও যেন একইভাবে (নেচে) উদ্যাপন করে। কেননা, আমিও ঠিক একইভাবে উদ্যাপন করবো।’
বিরতির বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে সমতায় ফেরে ভাস্কো দ্য গামা। মাঠে ফিরে ৬১তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন নেইমার। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা পরে সান্তোস। গত মৌসুমে শৈশবের ক্লাবটিকে শীর্ষ লীগে টিকিয়ে রাখতে চোট নিয়েও টানা কয়েকটি ম্যাচ খেলেন নেইমার। এরপর অস্ত্রোপচারের কারণে মাঠের বাইরে থাকেন দুই মাসের বেশি সময়।
গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বছরের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। ৬-০ গোলে জেতা ম্যাচটির পরের ম্যাচেই বিপাকে পড়ে যায় দল। নভোরিজোন্তিনোর কাছে ২-১ গোলে হেরে পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়ানশিপ থেকে ছিটকে যায় তারা। মূলত ওই ম্যাচের পরই নেইমারের ব্রাজিল দলে ফের জায়গা হারানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী মার্চ-এপ্রিলে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দু’টিতে আগে থেকেই নেইমারকে বিবেচনায় রাখেননি কার্লো আনচেলোত্তি।
এরপর থেকে আরও বেশি সমালোচনার বাণে জর্জরিত হওয়া নেইমার এদিন বলেন, ‘তারা গত সপ্তাহে বলছিল, আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। আমি আজ দুই গোল করেছি এবং এটিই দরকার। এটিই ফুটবল। আপনি একদিন খারাপ বা অবসর নেয়ার মতো খেলোয়াড়। পরের দিনই মানুষ আবার বলবে যে, আপনাকে বিশ্বকাপে যেতেই হবে।’ পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নিজেকে প্রস্তুত করতে আমি ঘাম ঝড়াচ্ছি এবং সেরা ছন্দে ফিরতে চাই। চলতি বছরে এটি ছিল আমার তৃতীয় ম্যাচ। এবং দ্বিতীয়বারের মতো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছি। শেষ দিকে পেশিতে কিছুটা টান ধরেছিল, তবে এটিও প্রক্রিয়ারই অংশ।’
