পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এখন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ লিপ্ত রয়েছে। কাবুলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের ভেতরে কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশেও হামলা চালিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ কয়েক ঘণ্টা আগে বলেন, আফগানিস্তান ‘ডুরান্ড লাইন’ বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ চালাচ্ছে। ডুরান্ড লাইন দুই দেশকে বিভক্ত করে রেখেছে।
তালেবান জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের আলাদা আলাদা দফা বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সংঘাত নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। নিচে তা তুলে ধরা হলো-
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি চলমান সংঘর্ষের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর জোর দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘটি নিজ দেশের ওপর সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় যুক্ত। তিনি দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী নীতির ভিত্তিতে মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে আত্মসংযম ও ইসলামী সংহতির কথা উল্লেখ করেন। আরাঘচি জানান, তেহরান গঠনমূলক সংলাপ সহজতর করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করা এবং কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়া যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সীমান্ত-পারাপারের হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে বলে আরআইএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। মস্কো উভয় পক্ষ সম্মত হলে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
তালেবানকে দেশে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করার পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ ‘পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে’। তিনি এক্সে লিখেছেন, বিস্তৃত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আজ যখন পাকিস্তানকে আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা হচ্ছে, আল্লাহর রহমতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় জবাব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন এটি উন্মুক্ত যুদ্ধ। এখন হবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, পাকিস্তানের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটি সব পরিস্থিতিতে পূর্ণ ঐক্য নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব সাহসের সঙ্গে দেবে। তিনি এক্সে আরও লেখেন, পাকিস্তান নিজের তৈরি সহিংসতা ও বোমা হামলা থেকে মুক্ত হতে পারবে না। তাদের নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে।
