‘ঋণে জর্জরিত দেশ উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

‘ঋণে জর্জরিত দেশ উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

ফন্ট সাইজ:

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের শাসনকালে অনিয়ম ও মেগা প্রজেক্টের নামে অর্থ লোপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এম নাসের রহমান। বুধবার রাতে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন নজিরবিহীন ঋণের বোঝা থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করাই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাজ্য বিএনপি’র কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও বক্তব্য প্রদান করেন সদস্য সচিব খসরুজ্জমান খসরুসহ যুক্তরাজ্য বিএনপি’র অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যের শুরুতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে এম নাসের রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। সংকটাপন্ন অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে এম নাসের রহমান বলেন মেগা প্রজেক্টের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিপাইনের সাবেক শাসক মার্কোসের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন যেখানে অতীতের বহুল আলোচিত দুর্নীতিতেও ২০ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের কথা বলা হতো, সেখানে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঋণের বোঝা রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ফলে বিশাল ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে নতুন সরকারকে পথ চলতে হচ্ছে। যা থেকে উত্তরণ অত্যন্ত কঠিন এক কাজ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে তিনি বলেন দেশকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনা এক কঠিন পরীক্ষা। নতুন সরকারের প্রথম বছরটি হয়তো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে দেশবাসী ও প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন- বিগত সময়ে মৌলভীবাজার-রাজনগরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান বাজেটে গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রতি বছর নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে তিনি জানান। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনার অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের জন্য তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা প্রকাশ করেন তিনি। শমসেরনগর বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে সংস্কার ও ওভারল্যাপিং করে কম খরচে এই বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা।

যা পর্যটন শিল্প বৃদ্ধি এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুবিধাজনক হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা। উচ্চশিক্ষার প্রসারে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা। এর পাশাপাশি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ নিয়মিত উন্নয়ন কাজগুলো চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতৃবৃন্দ দেশ পুনর্গঠনে সর্বস্তরের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন