ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার প্রধান সহকারী এছাহাক আলীর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার ও নিয়োগে অনিয়মসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে তার অর্জিত সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও এছাহাক অল্প সময়ে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি নিজ এলাকায় একটি আলিশান বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন সুবিধা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পৌর মহিলা বিপণি কেন্দ্রের দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তার একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকা এবং নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ব্যবহৃত সরকারি ইট নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এ ছাড়া, তার বাড়ির সামনের সড়ক ও ড্রেন পৌরসভার অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে; যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, প্রশাসনের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে এছাহাক আলী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
এসব অভিযোগের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এছাহাক আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ত্রিশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
