ভারী বৃষ্টিপাতে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ধস নেমেছে। এতে নদীর পাশের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। ফলে জেলা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের দেড় কিলোমিটার অংশ এখন চরম হুমকির মুখে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধের উপর দিয়ে অব্যাহতভাবে ভারী যানবাহন ও পথচারী চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শহরবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ঘাঘট নদীর ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে জেলা শহরকে রক্ষা করতে সদর উপজেলার ভেড়ামারা থেকে গোরহাট পর্যন্ত বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় এবং উত্তর পাশে সিসি ব্লক থাকলেও দক্ষিণ পাশে (শহরের অংশে) টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ক্ষয়ে ধস নামছে। তার ওপর বাঁধের একটি বড় অংশ বালুমিশ্রিত মাটি দিয়ে তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তা দ্রুত ধুয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরজমিন দেখা যায়, বাঁধটি শুধু শহর রক্ষাই নয়, স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কুটিপাড়া ও কোম্পানিপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের অনেক অংশ সরু ও নিচু হয়ে পড়েছে। ভাঙন ধরে তৈরি হওয়া গর্ত ও কাদার মধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীসহ ট্রলি ও অন্যান্য যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পাউবো নামমাত্র সংস্কার কাজ চালায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রতি বর্ষায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত ১৪ই জুন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি জানান, বাঁধটি দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভারী বৃষ্টির কারণেই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী ক্ষতির হাত থেকে বাঁধ রক্ষা করতে ইতিমধ্যে ছয়-সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটির বস্তা ফেলা হয়েছে এবং মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
