দীর্ঘদিন ধরেই দেশে গৃহশিক্ষক খুঁজতে অভিভাবকদের ভরসা করতে হয় বিভিন্ন টিউশন মিডিয়া, পরিচিতজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর। অন্যদিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও টিউশন পেতে এসব মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। গুনতে হয় চড়া কমিশন, ভেরিফিকেশন ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদানসহ নানা ধরনের জটিলতা- এ পরিস্থিতিতে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই অভিভাবক ও শিক্ষকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে দেশে চালু হয়েছে ‘টিউশন ফাইন্ডার’ নামের একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফরম। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, টিউশন ফাইন্ডারের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহশিক্ষক খুঁজে নিতে পারবেন। প্ল্যাটফরমটিতে থাকা ফিল্টারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়, কারিকুলাম, এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজেট অনুযায়ী শিক্ষক খোঁজার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের টিউটরের প্রোফাইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখে অভিভাবকেরা সরাসরি প্ল্যাটফরমের মাধ্যমেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, টিউশনপ্রত্যাশী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পছন্দের বিষয় ও অবস্থানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টিউশন খোঁজার পরিবর্তে সরাসরি অভিভাবকদের কাছ থেকে টিউশনের প্রস্তাব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে টিউশন খোঁজার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিউশন ফাইন্ডার অ্যাপটি ইতিমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস- উভয় প্ল্যাটফরমেই চালু হয়েছে। উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাপটি ১০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এরই মধ্যে প্ল্যাটফরমটির মাধ্যমে শত শত টিউটর ও অভিভাবক একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত টিউশন মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের জটিলতা অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করে পছন্দের শিক্ষক বেছে নেয়ার সুযোগ থাকায় অভিভাবকদের জন্যও প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন অভিভাবকেরা সহজে তাদের সন্তানের জন্য উপযুক্ত গৃহশিক্ষক খুঁজে পাবেন, অন্যদিকে টিউশনপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরাও কোনো মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
