মেয়ের জীবন বাঁচাতে মায়ের আকুতি

মেয়ের জীবন বাঁচাতে মায়ের আকুতি

ফন্ট সাইজ:

জান্নাতি। ছোট্ট একটি মেয়ে। বাবা নেই। মায়ের একমাত্র অবলম্বন। ভালো স্কুলে পড়ানোর স্বপ্নে গার্মেন্টসকর্মী মা শহরে ভাড়া বাসা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাসার ছাদেই বদলে যায় সবকিছু। হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারে দগ্ধ হয়ে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৪১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫ নম্বর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে জান্নাতি। চিকিৎসকরা বলছেন, তাকে বাঁচাতে একাধিক অস্ত্রোপচার জরুরি। আর অসহায় মা নিপা খাতুন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছেন।

গত ১৭ই জুলাই সকালে বৃষ্টির মধ্যে বাসার ছাদে ওঠে জান্নাতি। ছাদের খুব কাছ দিয়েই চলে গেছে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের লাইন। নিচ থেকে মা বারবার সতর্ক করছিলেন। কিন্তু মায়ের কথা বুঝতে না পেরে ছাদের কিনারায় এগিয়ে যায়। মুহূর্তেই গলা ও দুই পা স্পর্শ করে বিদ্যুতের তার। বিকট শব্দে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণে বাঁচলেও ভয়াবহভাবে দগ্ধ হয় শিশুটি। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে প্রথমে তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একটি বসতবাড়ির ছাদের এত কাছ দিয়ে কীভাবে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন রাখা হলো। এ দায় বাড়ির মালিকের, নাকি বিদ্যুৎ বিভাগের। জান্নাতির বাবা নেই।

মা নিপা খাতুন চৌগাছার ডিভাইন গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। একমাত্র মেয়েকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই শহরে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জান্নাতির গলা ও দুই পায়ে একাধিক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপা বলেন, আমার একটাই মেয়ে। ওকে বাঁচিয়ে দিন। মানুষের কাছে হাত পেতেছি। সবাই একটু সাহায্য করলে হয়তো আমার মেয়েটা আবার হাঁটতে পারবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন