শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সহযোগীদের খবর

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘উচ্চশিক্ষার বাহানায় বিদেশে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামাল মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান ২০১৫ সালে। এক দশক পেরোলেও ফেরেননি তিনি। তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক জিসান আহমেদ ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর ফেরেননি। তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩৭ লাখ টাকা। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন শিক্ষকের সংখ্যা কয়েকশ। উচ্চশিক্ষার নামে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বিদেশে থিতু হচ্ছেন তারা। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে বন্ডে সই করতে হয়-ছুটি শেষে অবশ্যই কর্মস্থলে ফিরবেন। এই শর্তেই তারা নেন ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ও বোনাস। কিন্তু বাস্তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে ফিরছেন না তারা। বারবার চিঠি দিয়েও মিলছে না সাড়া। এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাওনা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ তা আদায়ে চরম উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার পাওনার সঠিক হিসাবও নেই।

এদিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষার বাহানায় বিদেশে চলে গেছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে প্রবাসে থাকার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছেন। পাশাপাশি আগে থেকেই আওয়ামীপন্থি যেসব শিক্ষক প্রবাসে ছিলেন তারাও দেশে ফিরছেন না। এর বাইরে শিক্ষকদের আরেকটি অংশ নিয়োগের পর স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ঢাবি, জাবি, রাবিসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত সহস্রাধিক শিক্ষক বর্তমানে বিদেশে। পিএইচডি, পোস্টডক্টরাল গবেষণা, ফেলোশিপ ও অন্যান্য একাডেমিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ও গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শর্ত ভঙ্গ করে বিদেশে অবস্থান করা অনেক শিক্ষককে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হলেও বিদেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমছে না।

ঢাবির তিন শতাধিক শিক্ষক বিদেশে: ঢাবি প্রতিনিধি সাদ আদনান রনি জানান, ২০২২ সালের তথ্যমতে, বিশ্বের ১৬টি দেশের ১৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩২২ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের অনেকে দেশে ফিরলেও নতুন করে আরও অনেকে বিদেশে গেছেন। তবে বর্তমানে ঢাবির কতজন শিক্ষক দেশের বাইরে আছেন তার সঠিক তথ্য জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবেদনের পরও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে নীরব প্রশাসন। এদিকে ঢাবিতে ২ হাজারের বেশি শিক্ষক আছেন। স্বৈরাচারী শাসনের পক্ষে অবস্থানসহ নানা কারণে বিভিন্ন বিভাগের ৩৬ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

শিক্ষাছুটি শেষে উধাও জবির ২৮ শিক্ষক: জবি প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩২ জন শিক্ষক বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে ছুটি শেষ হলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি ২৮ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এদিকে বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যাপারে অর্থ ও হিসাব দপ্তর এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে।

১৫ বছরেও দেশে ফেরেননি জাবির ২৪ শিক্ষক: জাবি প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শতাধিক শিক্ষক। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফেরেননি ২৪ শিক্ষক। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি বকেয়া দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। তার কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা। তিনি ২০১৫ সালে মাস্টার্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২২ সালের জুনে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এছাড়া হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্তের কাছে পাওনা ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। একই বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক একেএম ফজলুর রহমানের কাছে পাওনা ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা।

চুয়েটে চাকরিচ্যুত ৪৪ শিক্ষক: চুয়েট প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ গালিব জানান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৮১ শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও ৬৮ জন দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিদেশে অবস্থানরত এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাওনা ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৭ টাকা। এদিকে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় ৪৪ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি ৫ জনের নামে মামলা চলমান।

নোবিপ্রবিতে প্রতি ৩ শিক্ষকের একজন ছুটিতে: নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মো. নিয়াজ উদ্দিন জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৪২১ শিক্ষকের মধ্যে ১২২ জনই শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে পিএইচডি করতে গিয়ে দেশে ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্তত ১৫ শিক্ষক। আবার নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ জন শিক্ষক এখনো যোগ দেননি। তাদের মধ্যে একজনের বেতন বন্ধ থাকলেও বাকি ৭ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাওনা ২ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা। এই শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ফিমস বিভাগের ড. আহসান হাবিব, কৃষি বিভাগের আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফার্মেসি বিভাগের হাসানুজ্জামান, এসিসিই বিভাগের শহিদুল ইসলাম, বিজিই বিভাগের খাদিজাতুল কুবরা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জিনাত হোসেন ও মাইক্রোবায়োলজির মেহেদী হাসান চৌধুরী। তবে ২১ জন বেতন-ভাতা ছাড়া ছুটিতে রয়েছেন।

হাবিপ্রবির চাকরিচ্যুত ১৪ শিক্ষক: হাবিপ্রবি প্রতিনিধি গোলাম ফাহিমুল্লাহ জানান, শিক্ষা ছুটি শেষেও ক্যাম্পাসে ফেরেননি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৮ শিক্ষক। এদের মধ্যে ১৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যথাযথ জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাছুটি নিয়ে ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক: খুবি প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম জানান, শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৯ শিক্ষক। ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যোগদান না করায় ১৪ জনের নামে মামলা চলছে। সাত-আটজন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাদের কাছে পাওনা অর্থ ফেরতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘সিএনজি স্টেশন, শিল্প-কারখানা আবাসিকে তীব্র গ্যাসসংকট’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাসচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার কার্যক্রমও। সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না পেয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনও করেছেন চালকরা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই গ্যাস নিতে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

অনেক চালক অভিযোগ করেন, তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক গতিতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি গাড়িতে গ্যাস নিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

গ্যাসসংকটের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অবরোধে অংশ নেওয়া চালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাইনি। এতে আমাদের দৈনিক আয় ব্যাহত হচ্ছে। জমা ও অন্যান্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংগ্রহ করতেই দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যাচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, শতাধিক চালক সড়কে অবস্থান নিয়ে দ্রুত গ্যাসসংকট নিরসনের দাবি জানান। খিলক্ষেত থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় আবাসিক গ্রাহকদের চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্প চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মন্ত্রণালয় গ্যাসসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মেরামতের কাজ করছেন। এটি সাময়িক সমস্যা। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ করা যাচ্ছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি দীর্ঘদিনের হলেও সরকার তা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী আরো জানান, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতি আরো জটিল করেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়ে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জে ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন গ্যাসকূপ খনন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

জ্বালানি তেলের সংকট নেই: দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল এবং ২০ দিনের জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আরো এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছবে এবং আগস্টে আসবে আরো দুই লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ জ্বালানি তেলের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম পাঠ্যবইয়ের ‘অনুশীলন’ অংশ অনুশীলন হয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করানোর নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক তা অনুসরণ করছেন না। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ 'নিজে করি, দেখি পারি কিনা' কার্যত চর্চার বাইরে থাকছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দেশের ২০ জেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের মূল্যায়নে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি পঠন (রিডিং) দক্ষতায় সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তার মুখ্য কারণ হলো পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশের বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়া। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিষয়টিকে একক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষার্থীর পারিবারিক সহায়তা, মূল্যায়ন ব্যবস্থাসহ নানা বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

৪৩ বিদ্যালয়ের চিত্র

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে সম্প্রতি দেশের ২০ জেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা। দেখা যায়, কোনো বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ চর্চা করছে না। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ অংশ সম্পন্ন করাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রাথমিকের পাঁচ বছর নিয়মিত অনুশীলন অংশ সম্পন্ন করে, তাহলে পরবর্তী শ্রেণিতে গিয়ে রিডিং বা লিখন দক্ষতায় বড় ঘাটতি থাকার কথা নয়। বাস্তবে সেই ঘাটতি রয়েছে। তাই শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

শিক্ষক নির্দেশিকা অনুসরণ করেন না শিক্ষকরা

প্রতিবছর শিক্ষকদের জন্য পৃথক শিক্ষক সহায়িকা বা নির্দেশিকা প্রস্তুত করে এনসিটিবি। এতে প্রতিটি পাঠ কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, অনুশীলন অংশ কীভাবে করাতে হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া থাকে। প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে কপি সরবরাহ করা হয়। তবে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষক এসব নির্দেশিকা অনুসরণ করেন না। অনেকেই এ ধরনের নির্দেশিকার বিষয়ে অবগত নন। এ কারণে সরকারি অর্থের অপচয় কমাতে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নির্দেশিকা শুধু অনলাইনে প্রকাশ করে এনসিটিবি।

ইত্তেফাক

‘গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, জনজীবনে বাড়তি চাপ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস মিলছে না, কোথাও একেবারেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, বিদ্যুেকন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা অন্তত ৪১০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাত্, প্রতিদিনই ১৪০ কোটির বেশি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে। এই বিদ্যমান ঘাটতির মধ্যেই এলএনজি সরবরাহে নতুন ত্রুটিজনিত ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল ও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।

মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। সাধারণ সময়ে জাতীয় গ্রিডে এসব টার্মিনাল থেকে ৯০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়। পেট্রোবাংলার মালিকানাধীন একটি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অপর টার্মিনালটি সামিটের। তবে দুটি টার্মিনালই পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের তাত্ক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্পাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস ব্যবহারকারী বাসিন্দারা রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারিসহ ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উত্পাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গতকাল দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষার দৃশ্য দেখা গেছে। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চালকদের এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে তাদের দৈনিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে ও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুেকন্দ্র, শিল্প ও অন্যান্য জরুরি খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সমুদ্রে অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত গত এক দশকে এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দেশীয় গ্যাসের ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন, আমদানিনির্ভর এলএনজি অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা একসাথে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শিল্পায়নের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, বস্ত্রশিল্প, সিমেন্ট, সিরামিক, ইস্পাত- প্রায় সব শিল্প খাতই গ্যাসনির্ভর। অথচ দেশের বড় বড় স্থলভাগের গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা, রশিদপুর- ধীরে ধীরে পরিণত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নতুন বড় আবিষ্কার না হওয়ায় উৎপাদন কমছে, আর সেই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে এলএনজি সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় দেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন করে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে- বাংলাদেশ কি তবে নিজের সমুদ্রবক্ষে লুকিয়ে থাকা অফশোর সম্পদ অনুসন্ধানে পিছিয়ে পড়েছে? সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগরে বড় কোনো নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদনে না আসার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ভুল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিনিয়োগসঙ্কট এবং কার্যকর দূরদর্শিতার অভাব।

২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানিসঙ্কটের পর পরিস্থিতি আরো স্পষ্ট হয়। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেলে বাংলাদেশকে একাধিক কার্গো বাতিল করতে হয়। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কাতার থেকেও সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার ঘটনা দেশের নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে- বাংলাদেশ কি তার নিজের সমুদ্রেই লুকিয়ে থাকা জ্বালানিসম্পদের যথাযথ অনুসন্ধান করেছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বঙ্গোপসাগরের অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান আবারো জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সম্ভাবনার কথা বহুদিন ধরে বলা হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো নতুন বাণিজ্যিক অফশোর গ্যাসক্ষেত্র উৎপাদনে আনতে পারেনি। কেন? কোথায় অগ্রগতি? কোথায় ব্যর্থতা? এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে? এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা হয়েছে।

৫০ বছরের অফশোর যাত্রা ও ‘সাঙ্গু’ শিক্ষা

বাংলাদেশে অফশোর অনুসন্ধানের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৪ সালে, যখন স্বাধীনতার পরপরই সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) জন্য সমুদ্রের ব্লকগুলো উন্মুক্ত করে।

প্রথম পর্যায় (১৯৭৪-১৯৯০): শেল ও ইউনোক্যালের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টরা প্রাথমিক জরিপ করলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের অভাবে উল্লেখযোগ্য সফলতা পায়নি। সাঙ্গুর সাফল্য ও দ্রুত অবসান (১৯৯৬-২০১৪): ৯০-এর দশকে কেয়ার্ন এনার্জি বঙ্গোপসাগরে ‘সাঙ্গু’ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও ভুল রিজার্ভ মূল্যায়নের কারণে ২০১৪ সালে এর উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। স্থবিরতার দশক (২০০০-২০১০): সাঙ্গু বন্ধ হওয়ার পর এবং স্থলভাগের গ্যাসের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়ায় অফশোর অনুসন্ধানে কার্যত এক দশকের স্থবিরতা দেখা দেয়।

আজকের পত্রিকা

‘অর্ধলক্ষ কনস্টেবল: বড় অংশের আ.লীগ সম্পৃক্ততা, ব্যবস্থার ধরন নিয়ে দোটানা’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫০ হাজার কনস্টেবলের বড় একটি অংশের পরিবারের সঙ্গে দলটির রাজনীতির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ছাড়া অনেকের নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার ও জেলা কোটা অপব্যবহার হয়েছে। তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে এই বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ধরন নিয়ে সরকার দোটানায় পড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কনস্টেবলদের নিয়োগ-সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে বড় একটি অংশের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ধরা পড়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে একযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিলে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পর্যায়ে বড় ধরনের জনবলসংকট তৈরি হবে। তাই যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলনামূলক কম গুরুতর, তাঁদের আপাতত অগুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগের পক্ষে জোরালো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়গুলো তদন্ত করেছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীতে অন্তত ৫০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগে এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ, রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ব্যবহার, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশের পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অনেকের একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা। এ ছাড়া বিশেষ কয়েকটি জেলার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপারকে (এসপি) প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ ও রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টরকে কমিটির সদস্য করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন গত এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে সদর দপ্তরের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ে তদন্তে পুলিশের গোয়েন্দারা আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চারটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ছিল ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার, অন্য জেলার প্রার্থীকে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দেখানো, অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার বা বৈষম্যের অভিযোগ।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশের পরিবারের আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বা এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য এসেছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজেরও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার প্রার্থীদের তুলনামূলক বেশি নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। কয়েকটি জেলায় অন্য জেলার প্রার্থীদের জমি কেনার ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা দেখিয়ে জেলা কোটায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে জোরালো কোনো তথ্য তদন্তে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে অংশ নেওয়া পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের বগুড়ার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর থানা এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ জন কনস্টেবলের স্থায়ী ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই তুলনামূলক সহজ হলেও নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। কয়েক বছর আগের নিয়োগ হওয়ায় টাকার বিনিময়ে চাকরি নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য তদন্ত কমিটির কাছে এসেছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটি নিয়েই দোটানা চলছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে বাহিনীতে কনস্টেবল পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তদন্তাধীন সদস্যদের অনেকেই এখনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত আছেন। চেইন অব কমান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ নীরবে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন। আপাতত তাঁদের শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি’। খবরে বলা হয়, নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

বঙ্গভবন সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে তার সুবিধাজনক সময়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

এদিকে সম্প্রতি লন্ডন থেকে বাইপাস সার্জারি করে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর তিনি দুইবার সিএমইএইচে চিকিৎসা নেন। শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না থাকায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চাচ্ছেন। অর্থাৎ শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার পদত্যাগের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনো পদত্যাগের তারিখ ঠিক হয়নি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই পদত্যাগপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেবেন। আমরা এখন ব্যাগ গোছাচ্ছি।’

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের সময় থেকেই জামায়াত-এনসিপি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পক্ষে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রক্রিয়া না চালিয়ে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ ছিল। বিএনপিও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কীভাবে পদত্যাগ করবেন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে। যদি সে সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হন বা পদটি শূন্য থাকে, তাহলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে শপথবাক্য পাঠ করান, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায়ও রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ধুঁকছে শিল্প ভুগছে গ্রাহক’। খবরে বলা হয়, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হোসেন ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লি. এবং মেহমুদ ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লি. কারখানা দুটি টঙ্গীর পাগার এলাকায় অবস্থিত। কারখানা চালাতে ১৫ পিএসআইয়ের গ্যাসের চাপ থাকার কথা থাকলেও গত দুই মাসে কারখানাগুলোতে এই চাপ ৪ পিএসআইয়ের ওপরে ওঠেনি। কখনো কখনো তা শূন্যে নেমে আসে। তখন কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। গ্যাসের সংকটে বর্তমানে এলপিজি, বিদ্যুৎ ও তেল দিয়ে কারখানার উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও এতে উৎপাদন খরচ প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন মেহমুদ।

মানিকগঞ্জের ধামরাইয়ে প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত ইনডেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিস অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার কারখানাটির মালিক। সাড়ে ৪ লাখ স্কয়ার ফুটের এ কারখানায় গ্যাস সংযোগ চাইতে মানিকগঞ্জের তিতাসের কার্যালয়ে কমপক্ষে ১০ বার গিয়েও কোনো সাড়া পাননি শাহরিয়ার। দুই বছর আগে কারখানাটি তৈরি করলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় বিদ্যুৎ দিয়েই কারখানাটির অর্ধেক অংশের উৎপাদন শুরু করেন। বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদনের জন্য খরচ ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসের শুরুতে গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা একসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করায় ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এ পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায় বলে কারখানা বন্ধের নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের জ্বালানি খাতে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব ছিল। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন, সেটির জোগান নেই। গত ১৭ বছরে দেশে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। ফলে পুরো দেশ এখন আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ কম হলে পণ্য উৎপাদন টার্গেট যেমন ব্যাহত হয় একই সঙ্গে বাজারে পণ্য সরবরাহেও ছেদ পড়ে। কারখানাগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে এমনটি চলতে থাকলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সংকোচন করতে হয়, শ্রমিক ছাঁটাই করতে হয়। এ অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে কারখানা বন্ধও করে দিতে হয়। প্রথমদিকে এ জিনিসগুলো ছোট কারখানা দিয়ে শুরু হয় আর দীর্ঘদিন এ ধরনের সমস্যা চললে তা বড় কারখানাগুলোতেও প্রভাব ফেলে। এখনো গ্যাসসংকটে বেশি মাত্রায় এলএনজি আমদানির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এলএনজি দিয়ে গ্যাসের সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে এবং নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন