জিম্বাবুয়ের মাটিতে চরম এক দুঃস্বপ্নের মধ্যদিয়ে সময় কাটিয়ে গতকাল সকালে দেশে ফিরেছেন টাইগাররা। টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা আর ওয়ানডেতে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে না পারার চরম ব্যর্থতা নিয়ে বিমানবন্দরে পা রাখেন জাতীয় ক্রিকেট দল। টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজে হার। যদিও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে কোনোরকমে মান রক্ষা করেছে। সাম্প্রতিক এই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রশ্নের শেষ নেই। শুধু পারফরম্যান্স নয়, দলের ভেতরের কোন্দল নিয়েও আছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও বিচলিত নন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। গতকাল দেশে ফিরে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আলহামদুলিল্লাহ্ গত সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় দলের এই দায়িত্বশীল কোচ পরাজয়ের তিক্ততা ভুলে সামনে তাকানোর আহ্বান জানান। এক সিরিজ দিয়ে তিনি দলকে বিচার করতে চান না। তিনি বলেন, ‘একটা সিরিজ খারাপ যেতেই পারে, কিন্তু এর আগের চারটি টেস্টেই ব্যাটাররা অসাধারণ খেলেছিল।’ চরম ব্যর্থতার মাঝেও তার এই আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ পুরো স্পোর্টস অঙ্গনে আজ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের প্রতিকূল আবহাওয়ায় বারবার হোঁচট খাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞ কোচ ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগের ব্যস্ততাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। আগের মতো আন্তর্জাতিক সিরিজের ঠিক আগে তিনদিনের ম্যাচ কিংবা ১টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকাকে মূল বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে আশরাফুল বলেন, ‘ওখানে বাড়তি বাউন্স ছিল, মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে।’ এ ছাড়াও জিম্বাবুয়েতে প্রথম সফর করা রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের মতো তরুণদের মানিয়ে নেয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে আশরাফুল আরও বলেন, ‘তামিম ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে টানা ৪টি অর্ধশতক করে কন্ডিশনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে; যা খুবই ইতিবাচক। আমরা কেউই হারতে চাই না, তবে হারের পর ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ শুধু তাই নয়, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরকে জিম্বাবুয়ের উইকেটের বাড়তি বাউন্স খেলার অভিজ্ঞতা দারুণ কাজে দেবে বলে মনে করছেন টাইগারদের এই ব্যাটিং কোচ। তিনি বলেন, ‘সামনে অস্ট্রেলিয়ায় দু’টি ঐতিহাসিক টেস্ট খেলতে হবে, যেটা অবশ্যই কঠিন হবে। তবে আমরা ১০ থেকে ১২ দিন আগে সেখানে যাচ্ছি এবং একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো। আশা করি, সবাই সুস্থ থাকলে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।’
আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করা নিয়ে চারপাশে শত আলোচনার ঝড় বইলেও, তা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয় ক্রিকেট বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্ট। দূরবর্তী সমীকরণের মারপ্যাঁচে না জড়িয়ে সম্পূর্ণ দল এখন একটির পর একটি টুর্নামেন্টকেন্দ্রিক পরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। ভবিষ্যৎ মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি নিয়ে আশরাফুল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘ওই বিষয় নিয়ে ম্যানেজমেন্ট একদমই চিন্তিত নন, আমরা সিরিজ বাই সিরিজ যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ ব্যর্থতা কাটিয়ে সামনে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচের কড়া পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ দলের জন্য। ভারতীয় চ্যালেঞ্জের পর পরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আরেকটি কঠিন দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেইসব পরীক্ষার মুখে আশরাফুল বলেন, ‘ওই সময় আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করবো।‘
