সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে মঙ্গলবার আচমকা ধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। ভেতরে আরও আটকে থাকতে পারে বলে অনুমান। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক। বিষাক্ত মিথেন গ্যাসেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, জল-কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে উদ্ধার কাজ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এনডিআরএফের সদস্যদের কাছে। উদ্ধার কাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও পাঁচ-ছ’জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তবে তাদের বের করা এখনো সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মিথেন গ্যাস লিক করার কারণেই সুড়ঙ্গের ভেতরে বিস্ফোরণ হয়। ধস নেমে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানান, মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ এবং সুড়ঙ্গ ধসের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এদিকে, সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তড়িঘড়ি দু’জন বিধায়ককে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এও জানান, ‘মৃত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেয়া হবে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কোনো মৃত্যুর পরিপূরক যদিও নয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াও মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার কাজ দেয়া হবে।’
