পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষই বড় ধরনের হতাহতের দাবি করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তজুড়ে বৃহৎ পরিসরের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান শুরু করা হয়। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, অভিযানে বহু পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
তালেবান সামরিক মুখপাত্র মাওলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর বারবার সীমান্ত লঙ্ঘন ও সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তালেবান বাহিনী উসকানিবিহীনভাবে সীমান্তের একাধিক স্থানে গুলি চালায় এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, পাল্টা অভিযানে আফগান পক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একাধিক সামরিক পোস্ট ও সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছিল, সীমান্তে পাল্টা হামলায় তালেবানদের অন্তত ২২ সদস্য নিহত হয়েছে।
এই উত্তেজনা শুরু হয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার পর। ইসলামাবাদ জানায়, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল।
তবে কাবুল দাবি করে, ওই হামলায় বেসামরিক বাড়িঘর ও একটি ধর্মীয় বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হন।
গত অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপরও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতে থাকে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন তালেবানকে সমর্থন দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে, আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর অন্তত ৬০০টি হামলা চালিয়েছে টিটিপি। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রায় ১৬০০ মাইল দীর্ঘ দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।
সূত্র: বিবিসি, জিওনিউজ।
