সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলামকে(সাময়িকবরখাস্তকৃত) চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সরকারি কর্ম কমিশন একমত পোষণ করেছে। গত ৯ই জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রশাসন শাখা-১ এর এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে দাখিলকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে তার অনুকূলে গত গত বছরের ২৫শে সেপ্টেম্বর হতে একই বছরের ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত অথবা ছুটি ভোগের তারিখ হতে ১৫ (পনেরো) দিনের বহিঃ বাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু তিনি ২০২৫ সালের ৫ই অক্টোবর হতে ১৯ই অক্টোবর পর্যন্ত মঞ্জুরীকৃত ছুটি ভোগ শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তিনি বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মজুরী আদেশের শর্ত ভঙ্গ করে ধারাবাহিকভাবে ১১৯ (একশত উনিশ) দিন অর্থাৎ ৩ মাস ২৭ দিন কার্তৃপক্ষের বিনাঅনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং অদ্যাবধি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।
তিনি কোনো জবাব প্রদান না করে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃপলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ এর উপবিধি (গ) অনুযায়ী ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে ০২/২০২৬ নম্বর বিভাগীয় মামলা রুজু করে তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী রেজিস্ট্রি এডি ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়। তার ই-মেইলেও অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য নোটিশ জারি করা হয়। তাতেও তিনি উপস্থিত হননি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়’ মর্মে প্রতিবেদন দেয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে চলতি বছরের ৩রা মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। ওই কর্মকর্তা বিদেশে অবস্থান করে নির্ধারিত সময়ের পর ই-মেইলে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রেরণ করেন।
দুদকে তদন্ত চলমান থাকায় তিনি আমেরিকা পালিয়েছে বলে জানা যায়। এর পূর্বে আবাসন সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অনেক টাকা হুন্ডির মাধ্যমে আমেরিকায় পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সিন্ডিকেট বাণিজ্যের সহযোগী হিসেবে একজন উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী এখনও তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আবাসন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে ।
