আটাবের আরেফ-আফসিয়ার মনোনয়ন বৈধ, ভোটার তালিকা বাতিল

আটাবের আরেফ-আফসিয়ার মনোনয়ন বৈধ, ভোটার তালিকা বাতিল

ফন্ট সাইজ:

দেশের ট্রাভেল এজেন্টদের শীর্ষ সংগঠন ‘এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ’ (আটাব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়ম, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং আইনি নীতি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের প্রধান প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ বাতিল ঘোষণা করেছে এফবিসিসিআই-এর সালিশ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মেদ সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রোয়েদাদ প্রদানের মাধ্যমে এই রায় দেন। যার মামলা নং ০৪/২০২৬ ও ০৫/২০২৬)। রায়ে নির্বাচন বোর্ড কর্তৃক আটাবের শীর্ষ নেতাদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং আপিল বোর্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তসমূহকে সম্পূর্ণ বেআইনি, এখতিয়ারবহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র পুনর্বহালপ্রাপ্ত আটাবের শীর্ষ নেতারা হলেন- সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান, সদ্য সাবেক উপ-মহাসচিব ইদ্রিস মিয়া।

মেয়াদ পূর্তি’র ভুল ব্যাখ্যায় প্রার্থী বাতিলের ষড়যন্ত্র পণ্ড: আটাব-এর ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী বাতিল করে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সদ্য সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সদ্য সাবেক উপ-মহাসচিব ইদ্রিস মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮(৪) ভুলভাবে প্রয়োগ করে কোনো আইনগত কারণ উল্লেখ ছাড়াই সাবেক নেতাদের মনোনয়ন বাতিল করে। তবে সালিশ ট্রাইব্যুনাল রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকারের প্রশাসনিক আদেশে কমিটি বাতিল হওয়ায় এবং ২৪ মাসের পূর্ণ সময়সীমা সম্পন্ন না হওয়ায় আইনগতভাবে তা “মেয়াদ পূর্তি” হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে আব্দুস সালাম আরেফসহ সাবেক শীর্ষ নেতাদের অযোগ্য ঘোষণা সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তিহীন ও বেআইনি।

সিসিটিভি ফুটেজে অনিয়ম প্রকাশ: অনুপস্থিত সদস্যের স্বাক্ষর ও ভুল পদবি মামলা শুনানিকালে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের নজিরবিহীন ও গুরুতর পদ্ধতিগত অনিয়ম উন্মোচিত হয়। আপিল শুনানির সময় ৩ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ২ জন উপস্থিত ছিলেন এবং ১ জন অনুপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত আদেশে ওই অনুপস্থিত সদস্যের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং আদেশের কপিতে ২ জন সদস্যের পদবিও ভুল লেখা হয়। ট্রাইব্যুনালের সামনে রঙিন সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি উপস্থাপন করা হলে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষনে জানায়, আইনের মৌলিক নীতি হলো যিনি শুনবেন, তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন। শুনানিতে অনুপস্থিত থেকে আদেশে স্বাক্ষর করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ভোটার তালিকায় জালিয়াতি: মামলা নং ০৫/২০২৬-এ উঠে আসে যে, বাতিলকৃত ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারীদের অন্যায়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করা হয়। এ কারণে ১২ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা করেন আদালত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন