স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও খেলাপির জামিনদারকেও চায় না ইসি

ফন্ট সাইজ:

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মচারী বা ঋণখেলাপির জিম্মাদারকে (গ্যারান্টর) প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব তুলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান আইনে একগুচ্ছ সংশোধনের অংশ হিসেবে এ প্রস্তাব তুলেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে এসব নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে।
এক্ষেত্রে সিটি, পৌর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান আইনে প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতায় নতুন দফা যুক্ত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা সংজ্ঞায় সংশোধন আনার প্রস্তাবও আছে ইসির।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে সার্বিক প্রস্তাব পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন সংশোধনের এখতিয়ার সংসদের।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি সচিবালয়। এর মধ্যেই আইন-বিধি সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।
আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন শুরুর কথা রয়েছে।
নির্দলীয় প্রতীকে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সিটি, পৌর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান আইন পর্যালোচনায় সকালে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা হয়।

সকাল ও বিকাল দুই দফা বৈঠকের পর সার্বিক প্রস্তাব নিয়ে ব্রিফিংয়ে আসেন আখতার আহমেদ।
সংসদ নির্বাচনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের সব আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
কমিশন সভায় সার্বিক প্রস্তাবনার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী স্থানীয় সরকারের সবগুলো আইনে সেভাবে নেই। কাজেই কমিশন মনে করে, সবগুলো আইনে এটা যুক্ত করা উচিত। কমিশন মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হয়।
তিনি বলেন, এ ছাড়া ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, লাভজনক পদে থেকে কেউ ভোট না করার প্রস্তাবে সম্মতি রয়েছে ইসির।
তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপির দুটো ক্ষেত্র- একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার। তো যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই, কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরকেও অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবে আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।

ইসি সচিব বলেন, পাশাপাশি বিলখেলাপি, যেমন ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসা- এ ধরনের যে সমস্ত সেবা প্রদানকারী সংস্থা, সেখানে যদি কোনো বিলখেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে; সেক্ষেত্রে এটা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে।
তিনি আরও বলেন, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যারা, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানে এটার একটা সীমাবদ্ধতা দেয়া আছে। আইন সংশোধনের বিষয়ে সরকারের কাছে শিগগিরই প্রস্তাব পাঠানো হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের সায় পেতে উপস্থাপন করবে। এরপর সংসদে উপস্থাপন হলে স্থায়ী কমিটিতে পর্যালোচনা হবে এবং সংসদে পাস হলেই তা সংশোধন আকারে যুক্ত হবে আইনে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবো, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাব বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন