জিয়া হত্যা: মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান তদন্তের স্বার্থে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আগামী ২৩শে জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাসিত ও বিচারপতি নুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল-২) বিধিমালা, ২০১০-এর রুল ৯(৪) ও রুল ৪৬-এ অনুযায়ী চিফ প্রসিকিউটর একটি আবেদন করেন। আবেদনে বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন (বিএসএম-১০১৭)-কে তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানানো হয়। আদেশে আরও বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ ২১শে জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার কার্যকর ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা প্রয়োজন। আবেদন পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালও একই মত পোষণ করেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা অপরিহার্য বলে অভিমত দেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আগামী ২৩শে জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করতে। এদিকে, আইসিটি বিডি (ট্রাইব্যুনাল-২) মিসকেস নং-১/২০২৬ মামলার পরবর্তী আদেশের জন্যও ২৩শে জুলাই দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সেনা আইনে বিচার হলেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলবে: এদিকে, শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে। ১/১১-এর অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে তার এক ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএ) কল রেকর্ড বিশ্লেষণে ‘জন্ডু’ নামে একজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে ওই ‘জন্ডু’র পরিচয় উদ্ঘাটন করে দেখা যায়, তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, তদন্তে গত ১৬ বছরে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফর হোসেনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা তাকে দোষী বলছি না। তবে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণেই তাকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে এনে প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মোজাফফরের বিরুদ্ধে সেনা আইনে বিচার চলার বিষয়টি উল্লেখ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক আইনে পৃথক বিচার হতে পারে। সেনা আইনে বিচার চললেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে যে মামলার রায় ও দণ্ড আগে কার্যকর হবে, সেই আইনের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে প্রয়োজন হলে যেকোনো ব্যক্তিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ভারতের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের বাইরে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। বর্তমানে তদন্ত সংস্থার হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের বিষয়টিই তদন্তের মূল বিষয়। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন