আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরজমিন পরিদর্শন করবেন। একইসঙ্গে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কথিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ এ দুটি মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ ছাড়া কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের কচুক্ষেত ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের একটি স্থাপনা, র্যাব-১ এর টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিমালা অনুযায়ী বিচারকরা প্রয়োজন হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন। অতীতে রুয়ান্ডা ও সাবেক যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেই পর্যবেক্ষণ বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। তিন বিচারক সুবিধাজনক সময়ে পরিদর্শনের দিন-তারিখ নির্ধারণ করবেন। পরিদর্শনের আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষকে নোটিশ দেয়া হবে এবং উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে পরিদর্শন সম্পন্ন হবে। এদিকে, হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সংস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হয়েছে। সেটি গ্রহণের পর ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ কিংবা আগামীকাল অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
সাবেক এমপি হাবিবসহ ২৬ আসামির বিচার শুরুর আবেদন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করা হয়। এ মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ৮ জন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দু’টি অভিযোগ পড়ে শোনান। একইসঙ্গে ঘটনার বীভৎসতা ও মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন। এ ছাড়া আসামিদের কার কী দায় রয়েছে, তা উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান এই প্রসিকিউটর। এরপর স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন শুনানি করেন। শুনানিতে নিজের মক্কেলদের ডিসচার্জ চান তিনি। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আবির, আশরাফদের আসামি করা হয়েছে। এজন্য তারা ডিসচার্জ বা অব্যাহতি পেতে পারেন। স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমামও নিজের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের বাকি আইনজীবীদের শুনানির জন্য আগামী ২৩শে জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
