আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় পরে দেশে ফিরেছে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে শেষ মুহূর্তের জয়ে ট্রফি নিজেদের করার পর, সোমবার রাজকীয় সংবর্ধনায় ভাসে ‘লা রোহা’ ফুটবলাররা। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহাসিক অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে বিখ্যাত সিবেলেস স্কোয়ার পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষের বিশাল জনস্রোত বিশ্বজয়ী নায়কদের স্বাগত জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং রাজপরিবারের সদস্যরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ দলের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘দলকে তাদের অসাধারণ খেলার শৈলী, নিরলস প্রচেষ্টা ও এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ফুটবল মাঠে আপনাদের চমৎকার নৈপুণ্য আমরা দারুণভাবে উপভোগ করেছি।’
সানচেজের বাসভবন মনক্লোয়া প্যালেস থেকে দলটিকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে একটি ছাদখোলা বাস। বাসের গায়ে লেখা ছিল- ‘তারাগুলো একসঙ্গেই জ্বলে ওঠে’। তখন খেলোয়াড়দের পরনে ছিল ‘সোমোস ক্যাম্পেওনেস’ (আমরাই চ্যাম্পিয়ন) লেখা পোশাক। ট্রফি হাতে অধিনায়ক রদ্রি, তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল এবং অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করা ফেরান তোরেসদের নাচ-গানে মেতে উঠতে দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা রাজপথ।
প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ভক্তরা ছাতা মাথায় নিয়ে রাস্তার দু’পাশে অবস্থান নেন। সিবেলেস স্কোয়ারে পৌঁছানোর পর এক বিশাল উন্মুক্ত মঞ্চে কোচে লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘স্পেনকে অশেষ ধন্যবাদ আমাদের এভাবে সমর্থন করার জন্য। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে আমাদের এমন ২৬ জন অসাধারণ ফুটবলার রয়েছে, যারা এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা। তাদের পরিচালনা করা আমার জন্য পরম সম্মানের। মনে রাখবেন, সবাই মিলে আমরা আরও শক্তিশালী। স্পেন দীর্ঘজীবী হোক!’
এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়েছে স্পেন। ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপও ঘরে তুললো দেশটি। ফলে জিতে একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয় সংস্করণের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার একক নজির স্থাপন করলো স্প্যানিশরা।
পুরো দেশে যখন আনন্দের বন্যা, ঠিক তখনই সালামানকা শহরে উল্লাসের সময় ফোয়ারা ধসে এক ১৩ বছরের কিশোরের প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর উদযাপনকে কিছুটা বিষাদগ্রস্ত করেছে। তা সত্ত্বেও ২০১০ সালের পর আবার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে বিশ্বমুকুট পুনরুদ্ধারের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
২০১০ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে বর্তমান স্পেনে এখন বইছে স্বস্তির হাওয়া। দ্বিগুণ কমেছে বেকারত্বের হার, চাঙ্গা হয়েছে দেশের অর্থনীতি। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তাপও অনেকটাই প্রশমিত। ফলে, দেড় দশক আগের চেয়ে ভিন্ন এক পরিবর্তিত ও পুনরুজ্জীবিত স্পেনের নতুন পরিচয় বহন করছে লা রোহাদের এই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়।

sunil bhowmik
১ ঘন্টা আগে2010 world cup celebration e I was present in Madrid .
Thanks.