রুয়েটে বহাল জুলাই আন্দোলন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা

ফন্ট সাইজ:

জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমাতে ছাত্র-জনতার উপর হামলায় অংশ নেয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে অফিস করছেন। কেউ কেউ মাঝেমধ্যে অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে তুলছেন বেতন। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আসামিকে রক্ষা করছেন নিজ প্রতিষ্ঠানের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, রুয়েটের আওয়ামীপন্থি চার অফিসারকে আগলে রেখেছেন দুইজন শিক্ষক ও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, জুলাইযোদ্ধা ও নগরীর ধরমপুর এলাকার আমানুল্লাহ আমানের দায়ের করা মামলায় আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাইসুল ইসলাম রোজসহ চার নেতাকর্মী এখনো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) স্বপদে বহাল আছেন। ছাত্রলীগ নেতা রোজ ছাড়াও এ মামলার অন্য তিন এজাহারভুক্ত আসামি হলেনÑ রুয়েটের হিসাব শাখার জুনিয়র অডিট অফিসার ও ৩ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম বিপু, গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও মামলার ৪ নম্বর আসামি মুফতি মাহমুদ রনি এবং মামলার ৯ নম্বর আসামি ও টেকনিক্যাল অফিসার মাহাবুব সালাম সেতু। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া রেজিস্ট্রার আরিফ আহমেদ চৌধুরীর ছত্রচ্ছায়ায় বহাল তবিয়তে আছেন আসামিরা। ৫ই আগস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হামলায় অংশগ্রহণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন জুলাইযোদ্ধা ও নগরীর ধরমপুর এলাকার আমানুল্লাহ আমান। মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকা অবস্থায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি।

বরং তাদের পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাইসুল ইসলাম রোজ ২০০৮-২০০৯ সেশনের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রুয়েট শাখার সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখ বিতর্কিত নিয়োগের মাধ্যমে রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরে সেকশন অফিসার হিসেবে রোজকে নিয়োগ দেন। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে রুয়েটের আবাসিক হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মামলার পর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি রুয়েট রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার যোগদানের বিষয়ে বলা হয়েছে। ৫৫৭০ নম্বর স্মারকসংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে ‘কর্তব্য-কর্মে যোগদান প্রসঙ্গে’- শিরোনামে রাইসুল ইসলামের পুনরায় স্বীয় পদে কর্মস্থলে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৩ সালের ৩১শে আগস্টের অনুসন্ধান নথিতে তৎকালীন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকায় রাইসুল ইসলাম রোজের নাম রয়েছে।
এদিকে একই হামলা-মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলাম বিপু ও মুফতি মাহমুদ রনিও বর্তমানে রুয়েটে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী আমানুল্লাহ আমান জানান, অনেক আশা নিয়ে মামলা করেছিলেন, বিচার পাবেন। কিন্তু বাদীকে সহযোগিতা না করে উল্টো আসামিদের সহযোগিতা করছেন রুয়েট কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানÑ বাদী আমান।
এদিকে ৫ই জুলাই রাজশাহীর খড়বোনা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, বোমাবাজি ও গুলির ঘটনায় আহত জুলাইযোদ্ধা সজান বাদী হয়ে ১৪৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৩ নম্বর আসামি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগে কর্মরত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান বাদশার ছেলে মাহমুদুর রহমান দ্বীপন। দ্বীপনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। মামলার এজাহারে ৩ থেকে ৩৯ নম্বর আসামির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছাত্র-জনতার দিকে গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। এজাহার অনুসারে দ্বীপনের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
জুলাইযোদ্ধা ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে এবং প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি না হয়ে কীভাবে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে রুয়েটের রেজিস্ট্রার আরিফ আহমেদ চৌধুরী জানান, এমন কোনো কর্মকর্তার ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। তবে কয়েকজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন