মাগুরার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী রাজিয়া খাতুন (১৫) ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ২০২২ সালের ১৭ই মার্চ শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে হাসান তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে যায়।
তিনি জানান, প্রথমে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়। পরে সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত রাজিয়ার মা বলেন, আমি রায়ে সন্তুষ্ট। মেয়েকে আর ফিরে পাবো না। এখন শুধু চাই মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর হোক। মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাজিয়া নিখোঁজ হলে পরদিন দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে কুমার নদের তীরবর্তী একটি বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে র্যাব, পুলিশ ও সিআইডি একযোগে কাজ শুরু করে। ঘটনার দুইদিন পর ১৯শে মার্চ একই গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে ও পেশায় নছিমনচালক হাসান শেখকে আটক করে র্যাব-৬। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় র্যাব। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে রাজিয়ার পরিবার। তবে তাদের একটাই প্রত্যাশাÑ শিশু রাজিয়ার নির্মম হত্যার বিচার যেন কেবল রায়েই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কার্যকর করা হয়; যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।
