পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাষানীতি ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাষানীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে সরকারি কাজে সর্বস্তরে বাংলা ভাষাই ব্যবহার হবে। সোমবার বিধানসভায় রাজ্য সরকারের নতুন ভাষানীতি প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সব সরকারি চিঠিপত্র, নির্দেশিকা, বিজ্ঞপ্তি বাংলা ভাষাতেই লেখা হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে বা অন্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘বিদেশি ভাষার’ পরিবর্তে বাংলার পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে হিন্দি ভাষা। আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

ভারত সরকার ২০২৪ সালে বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র দাবি করেছে, তারা আঞ্চলিক ভাষাগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধিতে আগ্রহী। তবে অতীতে তৃণমূল সরকার বার বার বিজেপি-কে ‘বাংলা-বিরোধী’ বলে খোঁচা দিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় রাজ্যে বিজেপি’র সরকার গঠনের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বাংলাকেন্দ্রিক এই ভাষানীতি প্রণয়ন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
রাজ্যে সরকারি কাজকর্মের ক্ষেত্রে বাংলাকেন্দ্রিক একটি ভাষানীতি প্রণয়নের চেষ্টা আগে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও হয়েছিল। তবে সেই ব্যবস্থা বেশিদিন চলেনি। তৃণমূল সরকারও একসময়ে বলেছিল, বাংলায় চাকরি পেতে গেলে বাংলা ভাষা জানতেই হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ স্তরে বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষায় চিঠি লিখেছেন। তবে সার্বিক ভাবে কোনো ভাষানীতি কার্যকর হয়নি। এবার রাজ্য সরকার বাংলাকেন্দ্রিক ভাষানীতি প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছে।

এদিকে, রোববার কলকাতায় জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘শব্দ সংগ্রহশালা’র উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতে প্রথম স্বীকৃত ২২টি ভাষার বিবর্ণ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই শব্দ মিউজিয়াম। দ্বোধনমঞ্চ থেকে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বৃদ্ধির বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে একটি চিঠিও দেন শাহ। ওই চিঠি প্রসঙ্গে শাহ বলেছিলেন, “আমার মনের একটা কথা আমি শুভেন্দুকে চিঠিতে লিখেছি। আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু আমার সেই স্বপ্ন নিশ্চয়ই পূরণ করবেন।” মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, ওই চিঠি তিনি সোমবার বিধানসভায় পড়ে শোনাবেন।
সেই মতো সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় শাহের লেখা ওই চিঠি পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, প্রশাসন, শিক্ষা, জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলোর যথাযথ স্থান পাওয়া উচিত। শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের নিজস্ব ভাষায় চললে তবেই তা কার্যকর এবং জনমুখী হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ অবস্থায় শুভেন্দুকে তার প্রস্তাব, পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার ব্যাপক প্রয়োগের বিষয়ে উৎসাহ দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়েই এবার নতুন ভাষানীতি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন