কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও স্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়েছে স্ত্রী মৌসুমী বেগম। এ ছাড়া স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় দিয়েছেন মিথ্যা অভিযোগ। স্বামীর ভাগ্নিকে দিয়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে করেছেন ধর্ষণ মামলা। স্ত্রীর একের পর এক মামলা ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে স্বামী আমিন মিয়া তিনটি শিশু সন্তানকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার বিকালে কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে বরমচাল ইউনিয়নের কালিয়ারগর এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে আমিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলাই মিয়ার মেয়ে মৌসুমী বেগমের সঙ্গে ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তাহমিদ (৮), মরিয়ম (৭) ও আমেনা (৪) নামে তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিন্তু নানা অজুহাতে স্বামীর অবাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি যাবার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় মৌসুমী।

এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য একাধিকবার সালিশি বৈঠক করে স্বামী ও শ্বশুরের অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বাহির না হওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তাদের কথা অমান্য করে বেপরোয়া চলাফেরা করে মৌসুমী। বিভিন্ন সময় নানা মিথ্যা নাটক সৃষ্টি করে প্রথমে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করে মৌসুমী। গ্রাম আদালত স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু গ্রাম আদালতের রায় মেনে কিছুদিন ভালো চললেও আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে মৌসুমী। স্বামীর উপার্জিত ও গরু বিক্রির লক্ষাধিক টাকাসহ উধাও হয় মৌসুমী। পরে খোঁজখবর নিয়ে স্বামী জানতে পারেন পার্শ^বর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে মৌসুমী। বিষয়টি আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, আমার ঘর নির্মাণের টাকা নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার জন্য থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি স্ত্রীকে ফোনে বাড়িতে আসার জন্য বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে তালাক দেয়ার কথা বলে। এ ছাড়া আমার বৃদ্ধ পিতাকে ফাঁসাতে আমার ভাগ্নি নাদিয়াকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দেয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত না করে আমার পিতাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এদিকে মামলার বাদী আমিন মিয়ার ভাগ্নি নাদিয়া আদালতে একটি আপসনামা দাখিল করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে গত ২২শে জুন তিন সন্তানকে ফেরত চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করেন আমিন মিয়া। কুলাউড়া থানার এসআই আল-আমিন বলেন, বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড হয়েছে। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত হাবিবুর রহমান বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে। যদি মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণ না আসে তাহলে আসামিকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। এ ছাড়া বাদী যে আপসনামা আদালতে জমা দিয়েছে সেটাও পুলিশের নজরে এসেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন