বাংলাদেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অভিবাসী কর্মী মন্ত্রণালয়-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।
বৈঠকগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা ও পেশার উন্নয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা এবং দক্ষ বাংলাদেশি নার্স ও মিডওয়াইফদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা ও সফল অনুশীলন সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত বিকাশ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নার্স ও মিডওয়াইফদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের চলমান স্বাস্থ্য খাত সংস্কার, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, ফিলিপাইনের অভিবাসী কর্মী মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করা, দক্ষতা ও ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং সরকার-সরকার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। বিদেশে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং পেশাগত সহায়তা প্রদানে ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিনিধিদল উল্লেখ করে। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা ও পেশার উন্নয়নের মাধ্যমে একদিকে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফিলিপাইনের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উভয়পক্ষই স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এই সফর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
