যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা নবম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর দেশ দুইটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে এই সংঘাতে ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক হামলা সহ্য করার পাশাপাশি কার্যকর পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
ইরানের এমন প্রাণঘাতী পাল্টা জবাবের মুখে মার্কিন সেনাবাহিনী বহু বছর পর আবারও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডান ও ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর অন্তত তিনজন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন নিজেদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তেহরানের দাবি, তাদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং বিমান হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, তখন উপসাগরীয় দেশ কুয়েত ও বাহরাইনেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, আর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানকার বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিদিনের মতোই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার (১৯ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে অচিরেই এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা গত মে মাসে সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ গোপন সংরক্ষণাগারে এখনও প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন মজুত থাকতে পারে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন, শুধুমাত্র বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য- হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা- অর্জন করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি প্রচারিত ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ পডকাস্টে ভ্যান্স বলেন, আপনি তাদের ওপর বোমা ফেলতে পারেন, তাদের রাডার ধ্বংস করতে পারেন, কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করতে পারেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো এতটাই সহজ যে, শুধু বিমান হামলায় সেই হুমকি দূর করা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইরান আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে যে, শুধু বাণিজ্যিক জাহাজই নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন মার্কিন সেনারাও এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে সেই হামলার প্রাণঘাতী পরিণতিও সামনে এসেছে।

M.H Bari
১৮ ঘন্টা আগেঅবশ্যই ইরান বিজয়ী হবে কেননা ইরান সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়েছে। মধ্যেপ্রাচ্যের মুসলিম নামদারী দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে দাড়ানো উচিৎ।