বিশ্বকাপ জিতে বিপুল লাভ স্পেনের, বাকিরা পাবে কত?

বিশ্বকাপ জিতে বিপুল লাভ স্পেনের, বাকিরা পাবে কত?

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এতে দেশটি শুধু তাদের দ্বিতীয় বিশ্বশিরোপাই অর্জন করেনি, তারা পেতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কারমূল্যও। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের পাশাপাশি বিশ্বসেরা দেশটির খেলোয়াড়েরা পাবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর্থিক পুরস্কার। নিউ ইয়র্কে ফাইনাল ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই জয়ের ফলে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রাইজমানি পেয়েছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বড় অংশ পাবে খেলোয়াড়রা:

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার দেওয়া এই বিশাল অংকের একটি বড় অংশ খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই স্প্যানিশ স্কোয়াডের অধিনায়ক ও ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যকার এক চুক্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল। ফিফা মূলত নকআউট পর্বের প্রতি ধাপের জন্য আলাদা অর্থ না দিয়ে টুর্নামেন্টে দলগুলোর চূড়ান্ত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ফেডারেশনগুলোকে এককালীন অর্থ প্রদান করে। ফাইনালে ওঠার মাধ্যমেই স্পেন অন্তত ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা) নিশ্চিত করেছিল, যার ৪০ শতাংশ বা ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার (প্রায় ১৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা) ২৬ জন খেলোয়াড়কে দেয়ার কথা ছিল। সে হিসাবে শিরোপা না জিতলেও কর কাটার আগে প্রতিটি ফুটবলারের নিশ্চিতভাবে অর্জিত হতো ৫ লাখ ৭ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি, যা প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ। তবে ফাইনাল জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর সেই অর্থ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বজয়ী হওয়ার কারণে ফিফা প্রদত্ত মোট ৫ কোটি ডলারের ৪৫ ভাগ সরাসরি খেলোয়াড়দের বোনাস পুল হিসেবে বণ্টন করা হবে। এর ফলে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের জন্য বরাদ্দ থাকছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ২৭৭ কোটি২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, কর কাটার আগে স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় পেতে যাচ্ছেন প্রায় ৮ লাখ৬৫ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মতো। ফিফা থেকে প্রাপ্ত প্রাইজমানির বাকি অর্থ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিজেদের তহবিলে রাখবে, যা দিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট পরিচালনার খরচ মেটানো ছাড়াও দেশটির ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল ফিফার কাছ থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা) প্রাইজমানি লাভ করবে। তবে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মতো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের এই পুরস্কারের অর্থ ২৬ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে কীভাবে বা কত শতাংশ হারে ভাগ করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

পুরস্কারের অর্থমূল্যে রেকর্ড, কোন দল পাবে কত?

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ প্রাইজমানির দিক থেকে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ফিফা আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার মোট পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ৫০ ভাগ বাড়িয়েছে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রদান করা প্রাইজমানির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন স্পেন পেয়েছে ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা), রানার্সআপ আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা), তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ড পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি ৫ টাকা) এবং চতুর্থ হওয়া ফ্রান্স পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা)। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও মরক্কোর প্রতি দল পেয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে (প্রায় ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা)। শেষ ১৬ দল বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কলম্বিয়া, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং কানাডার প্রতি দল পেয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৮৪ কোটি৬৮ লাখ টাকা)। এছাড়া শেষ ৩২ দল হিসেবে ঘানা, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কেপ ভার্দে, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সেনেগাল, ডিআর কঙ্গো, ইকুয়েডর, সুইডেন, আইভরি কোস্ট, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিটি দল পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৩৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা)। আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া উরুগুয়ে, স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, উজবেকিস্তান, ইরাক, সৌদি আরব, কুরাসাও, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, পানামা, জর্ডান, তিউনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড, হাইতি ও তুরস্কের প্রতি দল পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা)। খেলোয়াড় ও দলগুলোর পারফরম্যান্স নির্ভর এই প্রাইজমানিতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৭০ কোটি ৩ লাখ ডলার (প্রায় ৮,৬২২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা)। এর বাইরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের খরচ ও বাড়তি আর্থিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাকি ১৬ কোটি ৮ লাখ ডলার (প্রায় ১,৯৮০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা) ফিফা সমানভাবে বণ্টন করে দিয়েছে, যা টুর্নামেন্টে তারা যে স্থানেই শেষ করুক না কেন সবাই পাবে। স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপ জয় কেবল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমরত্ব এনে দেয়নি, বরং তাদের ঝুলিতে এনে দিয়েছে ফিফা ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নগদ বোনাস।

সূত্র: ফোবর্স

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন