টানা নবম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, জবাব দিচ্ছে ইরানও

টানা নবম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, জবাব দিচ্ছে ইরানও

ফন্ট সাইজ:

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তীব্র সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও টানাপোড়েনের মধ্যে টানা নবম রাতের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালাতে ইরান যে সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা ব্যবহার করছে, সেগুলোকে অকার্যকর করতেই এই জোরদার সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা ফার্স নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমের একাধিক স্থানে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর সিরিক ও জাস্ক এবং খুজেনস্তান প্রদেশের কৌশলগত মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বের সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক এবং চাবাহার বন্দর নগরীতে বিমান হামলা ঠেকাতে মধ্যরাতে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর এই প্রথমবার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বড় শহর তাব্রিজে হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। হামলার প্রতিউত্তরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে। লরেস্তান প্রদেশ থেকে ছোঁড়া ইরানি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন টার্গেট করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে বিপদসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েতি সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোনের উপস্থিতি টের পেয়ে সেগুলোকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে। টানা দুই দিন ধরে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি শোধন প্ল্যান্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলায় ইরান। এতে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং দেশের সাধারণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এদিকে ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না এবং সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করছে। তার দাবি, টানা নবম রাতের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর বেশিরভাগ অংশই চুরমার হয়ে গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান যে তারা তেহরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কূটনীতির পথ এখনো খোলা রেখেছেন। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসেম ঘরিবাবাদি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং বেসামরিক বিদ্যুৎ ও পানির স্থাপনায় কোনো হামলা চালানো হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের অত্যন্ত ভয়াবহ ও উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে। সংঘাতের এই নতুন মোড় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আকাশ-নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন