আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘বেনজীরকে ফেরত দিতে রাজি দুবাই, চার বিষয়ে ব্যাখ্যা চায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে, সে সম্পর্কিত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন তারা (দুবাই পুলিশ) মূলত প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছে।
দুবাই পুলিশের ওই চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র। সূত্রগুলো বলেছে, বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় ওই চিঠির জবাব তৈরির কাজ করছে দুদক।
বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত ও প্রত্যর্পণের নথিপত্রের বিষয়টি সমন্বয় করছেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। জানতে চাইলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত জবাব পাঠানো যাবে এবং তাঁকে (বেনজীর) দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।’
বেনজীর আহমেদের দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য গত ১৪ জুন প্রথম জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।
এরপর বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীরের প্রত্যর্পণ চায়। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বেনজীর বর্তমানে দুবাইয়ের কারাগারে আটক আছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি কী, সেই পরোয়ানার কার্যকারিতা কতটুকু এবং পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা ও নথিপত্র প্রস্তুত করে খুব দ্রুত জবাব পাঠানো হবে। তাঁদের মতে, দুবাই পুলিশের চিঠির ভাষা থেকে স্পষ্ট, তারা বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পরে আদালতের আদেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যান।
পরবর্তী সময়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
দেশ ছাড়ার পর থেকে বেনজীর আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘ সময় নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না।
বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পেছনে তাঁরই কয়েকজন সাবেক সহযোগীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁরা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। একটি শপিং মল থেকে বেনজীরকে আটক করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও দুবাই পুলিশের বিবেচনায় ছিল।
প্রথম আলো
‘স্থানীয় নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের বিধান চায় ইসি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক এই সংস্থা। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার চিন্তা আপাতত নেই।
ইসি সূত্র জানায়, জেলা পরিষদ বাদে স্থানীয় সরকারের অন্য চারটি প্রতিষ্ঠান—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে এসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসির আইন–বিধি সংস্কার কমিটি। স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের চর্চা না থাকলেও বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে (২০০৯ সালের) ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ’ আছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে পুলিশের মতো সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সুযোগ আছে। এখন উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন আইনেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ বা সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার পক্ষে ইসি।
আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলার কথা রয়েছে। সেখানে অনুমোদনের পর সুপারিশ আকারে এসব প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে ইসি। ইসির এসব প্রস্তাব বা সুপারিশ সরকার আমলে নিলে সংশ্লিষ্ট চারটি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপ হবে মন্ত্রিসভায় আইনের সংশোধনী অনুমোদন এবং সংসদে বিল পাস করা।
এর আগে সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছিল। তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাদ দেওয়া এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। চলতি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওই সব অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়।
সেনা প্রসঙ্গ
সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটি করা হয় না। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে সশস্ত্র বাহিনী সংজ্ঞাভুক্ত থাকলে সুবিধা হয়। আইনে এটি যুক্ত হলে তিন বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও পুলিশের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমনিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘর্ষ-সংঘাত তুলনামূলক বেশি হয়। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা একই এলাকায় প্রার্থী হতে পারেন। আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের কেউ কেউ প্রার্থী হন কি না, সেটাও আলোচনায় আছে। সবমিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া পুলিশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ইসির আইন–বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো আইনে সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়টি আছে, আবার কোনো কোনো আইনে তা নেই। তাঁরা সব কটি আইনের বিধান অভিন্ন রাখতে চান। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনী সংজ্ঞাভুক্ত না থাকলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন একটু কঠিন হয়। আবার আইনে থাকলেই যে ব্যবহার করতে হবে, তা নয়। কিন্তু এটি থাকলে একটি সুযোগ থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসি যদি মনে করে, সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন, তাহলে করতে পারবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘গৌরবে-সৌরভে সুরভিত স্পেন’। খবরে বলা হয়, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে স্পেন প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একমাত্র গোলে। সেই স্প্যানিশ কিংবদন্তি কাল মাঠে এলেন হাতে ট্রফি নিয়ে। সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মারিও কেম্পেস। ১৬ বছর পর ইনিয়েস্তার সামনে স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জিতল সেই একই ব্যবধানে- ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। এবার জয়ের নায়ক বদলি হিসাবে নামা আরেক বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেস। নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের রবিবাসরীয় ফাইনালে নিষ্প্রভ লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১২০ মিনিটের অসম লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে একাই লড়েছেন আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিন্তু তার ১০টি সেভেও শেষ রক্ষা হয়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
১০৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে মেসিদের বিষাদে ডুবিয়ে গ্যালারিতে লাল ঝড় তোলেন ফেরান তোরেস। আর্জেন্টিনা এতটাই নিষ্প্রভ ছিল যে, পুরো ম্যাচে গোলে কোনো শটই নিতে পারেনি। আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেও দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল মেসির। ১০ গোল করে এবারের আসরে গোল্ডেন বুট জিতলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসিকে (২১) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডও (২২) নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।
এর আগে প্রথমার্ধে স্পেনের নান্দনিক পাসিং ফুটবলের সামনে খুঁজেই পাওয়া যায়নি আর্জেন্টিনাকে। পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্পেন। দানি ওলমোর কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পেলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করতে পারেননি ইয়ামাল। ডাইভ দিয়ে বল গ্লাভসে নেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার। কয়েক সেকেন্ড পর ফের সুযোগ পান ইয়ামাল। এবার তার শট আটকে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণে। প্রতিআক্রমণে সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনেও। কিন্তু প্রায় মাঝমাঠে উঠে এসে লিওনেল মেসিকে সুযোগ না দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। ১৭ মিনিটে গোলমুখে ইয়ামালের দারুণ একটি ক্রস থামিয়ে দেন মার্তিনেজ। ২৬ মিনিটে আরেকবার সামনে এগিয়ে এসে সিমন বল ক্লিয়ার না করলে বিপদে পড়তে পারত স্পেন। ৩৯ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের শট ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন মার্তিনেজ। ৪১ মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসাদ্রো মার্তিনেজ। চোট পাওয়ায় একটু পরে তাকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে নামান আর্জেন্টিনা কোচ। প্রথমার্ধে গোলের জন্য তিনটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। বিপরীতে আর্জেন্টিনা শট নেওয়া দূরে থাক, প্রতিপক্ষের ডি বক্সেও ঢুকতে পারেনি। প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা স্পেনের ৩৬৩ পাসের ৯০ ভাগই ছিল সফল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাত্র ২০০টি পাস খেলতে পারে। প্রথমার্ধের খেলা শেষে হাফটাইম শো’তে পারফর্ম করেন কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা, বার্না বয়, জাস্টিন বিবার। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যান্ড বিটিএসও পারফর্ম করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই ব্রাজিলীয় লিজেন্ড রোনালদো ও রোনালদিনহো বগি চালিয়ে পপতারকা ম্যাডোনাকে নিয়ে আসেন মাঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিকো গঞ্জালেসের বদলি হিসাবে নামার একটু পরই স্পেন অধিনায়ক রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা মেরে হলুদ কার্ড দেখেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ৫৮ মিনিটে মন্তিয়েলকে তুলে মলিনাকে নামান আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। ৬২ মিনিটে ওইয়ারসালাব ও ফাবিয়ান রুইজকে তুলে ফেরান তোরেস ও পেদ্রিকে নামান স্প্যানিশ কোচ দে লা ফুয়েন্তে। ৬৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। ইয়ামালের ক্রস থেকে তোরেসের দারুণ এক হেড থামিয়ে দেন মার্তিনেজ। ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেলেও গোলমুখ খুলতে পারছিল না স্পেন। ৭০ থেকে ৮০ মিনিটের মধ্যে পেদ্রি, কুবার্সি ও তোরেসদের হতাশ করে তিনটি দারুণ সেভ করেন মার্তিনেজ। গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ওলমো ও বায়েনার জায়গায় মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামায় স্পেন। অন্যদিকে রদ্রিগো দি পল ও রোমেরোকে তুলে জুলিয়ানো সিমিওনে ও ফাকুন্দো মেদিনাকে নামায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে মার্তিনেজের আরেকটি দারুণ সেভের পর কুবার্সিকে ফাউল করে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। একটু পর অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ইয়ামালের ফ্রিকিক ঠেকিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান মার্তিনেজ। ৯৫ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস আর্জেন্টিনার জাল কাঁপালেও ওতামেন্দি ফাউলের শিকার হওয়ায় গোল পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে দারুণ এক গোলে আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে স্পেনকে উল্লাসে ভাসান ফেরান তোরেস।
এর আগে প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মলিনা আক্রমণে উঠতে পারেন না। তাই অভিজ্ঞ মন্টিয়েলকে মাঠে নামান তিনি। পারেদেস মূলত রক্ষণের কাজ করেন। তাই গনজালেসকে নামিয়ে উইং দিয়ে আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল কোচের। অভিজ্ঞ ডি পল মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী। স্পেনের রদ্রির বিপক্ষে তাকে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল স্কালোনির। ডি পল থাকলে মেসি খানিকটা ফাঁকা জায়গা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তাকে মাঠে নামানো। স্পেন অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে।
কালের কণ্ঠ
‘৪ আগস্টেই শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন সময় শেষ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রবল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। তিনি দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক দিন আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট।
বিষয়টি তাঁর মন্ত্রিসভা ও দলের আস্থাভাজনদের জানালেও গোপন রাখতে বলেন। বিপদ বুঝতে পেরে অনেকেই তখন দেশ ছেড়ে পালান। এরপর ৫ আগস্ট জনরোষ থেকে বাঁচতে শেখ হাসিনাও ইমিগ্রেশন না করে কার্যত পালিয়ে যান। অবৈধভাবে দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রচলিত পাঁচটি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
এ জন্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থা ও সরকারের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান সরকার।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের এক দিন আগে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে যাতে সে দেশে আশ্রয় দেওয়া হয় সে জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধও জানান। শেখ হাসিনার সঙ্গে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট টেলিফোনে যাঁদের কথোপকথন হয়েছে তার সব অডিও সংগ্রহ করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেসব অডিওর ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরি করা হয়। কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তার অডিও রেকর্ডও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরেকটি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা আগেই টের পেয়েছিলেন তিনি আর ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবে তিনি দেশও ত্যাগ করতে পারবেন না। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবে বিমানবন্দরেও যেতে পারবেন না। যে কারণে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টম ক্লিয়ারেন্স নেননি। ক্ষমতার অপব্যহার করে তিনি অবৈধ চ্যানেল ব্যবহার করে দেশত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশ ছাড়ার জন্য ঢাকার বীর-উত্তম এ কে খন্দকার বিমানঘাঁটি থেকে বিমানে ওঠেন। বিমানে ওঠার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও শেখ রেহানার সঙ্গে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেও তাঁরা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করে অবৈধভাবে দেশত্যাগ করেন।
অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শুধু বিমানবন্দর বা অনুমোদিত চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করেই বিদেশে যাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে দেশত্যাগ করলে বিধান অনুযায়ী সেটা অবৈধ ও বেআইনি। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অনধিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রচলিত আইন অমান্য করে দেশত্যাগ করেন।
শেখ হাসিনা নিজের ইচ্ছাতেই দেশত্যাগ করেন
তদন্তে জানা গেছে, ভারতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নিজেই নেন। এ জন্য তিনি ৩ আগস্ট ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা গণভবনের (বর্তমানে জুলাই জাদুঘর) লেক রোডের গেট দিয়ে সড়কপথে গাড়িতে করে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে আসেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলায় এ কে খন্দকার বিমানঘাঁটিতে আসেন। লাগেজপত্র নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের লকহিড সি-১৩০ জে হারকিউলিস বিমানে দেশত্যাগ করেন। দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা তিনি গণভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানান।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যরা শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের ৫৩০ সদস্যের তিনটি কন্টিনজেন্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ধাপে বাছাই করে টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে হাইতিতে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে বর্তমানে হাইতি ও জাতিসংঘ সদরদপ্তরে রয়েছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের বাজেট সংকটের কারণে যখন মিশনে বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য কমে যাচ্ছে, ওই সময় হাইতিতে এত সংখ্যক পুলিশ সদস্যের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সোয়াটসহ একাধিক বিশেষায়িত ইউনিটের সদস্যরা হাইতির মিশনে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছে। ৩৭ বছরে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৬ জন সদস্য কাজ করেছেন। এখন কাজ করছেন ২০ জন। তারা ইন্ডিভিজ্যুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) হিসেবে মিশনে আছেন। তবে এখন বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কন্টিনজেন্ট শান্তি মিশনে নেই। হাইতিতে যারা যাচ্ছেন, তারা ফর্মড পুলিশ ইউনিটের (এফপিইউ) সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এ ছাড়া অনেকে প্রফেশনাল পুলিশ অফিসার (পিপিও) হিসেবে কাজ করে থাকেন।
গত বছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে চলমান অর্থ সংকটের কারণেই এই সদস্যসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তখন জানায়, শান্তিরক্ষা মিশনের এক-চতুর্থাংশ শান্তিরক্ষী কমাবে জাতিসংঘ। সেখানে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি মিশনে তার বাজেট কমিয়ে অর্ধেক করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্যকে মিশন থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে একসঙ্গে হাইতিতে ৫৩০ জন পুলিশ সদস্য যাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার বিশেষায়িত বেশ কিছু ইউনিট থেকে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য হাইতিতে শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করবেন। এর মধ্যে আছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিম, ফরেনসিক, অর্গানাইজড ক্রাইম, নৌ পুলিশ ক্রাইম সিন, ভিআইপি প্রটেকশন ও সোয়াট। হাইতিতে যারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জনের মতো সোয়াট সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিশেষায়িত ইউনিট থেকে কমপক্ষে পাঁচজন থাকছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাইতিগামী তিনটি কন্টিনজেন্টের প্রধান হবেন তিনজন পুলিশ সুপার পদের কর্মকর্তা। এ ছাড়া সব মিলিয়ে ১২ জন কর্মকর্তা তিনটি ইউনিটে যুক্ত থাকবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, এসআই, কনস্টেবল এই দলে রয়েছেন। পুলিশ সদরদপ্তরের সূত্রটি জানায়, ৩৭ বছরে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৬ জন সদস্য শান্তিরক্ষী হিসেবে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত পুলিশের সংখ্যা কখনও ২৩০-এর নিচে নামেনি। এমনকি ২০১৩ ও ২০১৬ সালে বিশ্ব থেকে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি ছিল। পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার কাজে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন।
ইত্তেফাক
‘বেড়েই চলেছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ষাটোর্ধ্ব আশা খাতুন। তার একমাত্র সম্বল ছিল স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া ভিটেমাটি আর একটি মাটির ঘর। কিন্তু তার সেই সম্বল ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। ভেসে গেছে ঘরে থাকা ধানের গোলা, চাল, হাঁস-মুরগি ও পুকুরের মাছ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার আর কিছুই নাই, ভিটামাটি ঘর সব ভেসে গেছে। এখন কোথায় যাব, কী খাব, কোথায় থাকব! স্বামীও মারা গেছেন। ছেলেমেয়েরা যে যার মতো দিনমজুরের কাজ করে জীবন চালায়। গভীর রাতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে সব হারিয়েছি। মাটির ঘরটি মুহূর্তেই তলিয়ে যাওয়ায় এক কাপড়েই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।’
এখন গ্রামের এক প্রতিবেশীর পাকা ঘরের বারান্দায় দিন কাটাচ্ছেন আশা খাতুন। তিনি নিজ বাড়িতে আর বসবাস করতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে সন্দিহান। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশা খাতুনের মতো সহায় সম্বল হারিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য অগণিত মানুষ পাড়ি জমান অন্যত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ঘনত্ব দুটোই বেড়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততার কারণে অসংখ্য মানুষ তাদের বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও উপকূলীয় এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার জীবিকা হারিয়ে শহরমুখী হয়ে আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের বস্তিগুলোতে বাস্তচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যা আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়াচ্ছে।
সরকার বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও ত্রাণ, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তা প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তুচ্যুতি কমাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই বাঁধ ও নদীশাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। সেখানে প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের কারণে লাখ লাখ মানুষ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়। আইডিএমসি—প্রকাশিত বৈশ্বিক অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত প্রতিবেদন-২০২৫-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ। তার আগের বছর দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ। ঐ বছরও বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম।
দুর্যোগ ছাড়াও দেশে গত বছর সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ২ হাজার ৮০০ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আইডিএমসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইডিএমসি বলেছে, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট বন্যায় ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে শুধু জুন মাসেই ৭ লাখ ২৩ হাজার জনকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমির ওপরের অংশের পানি শোষণ করার মতো পর্যাপ্ত অবস্থা না থাকা এবং নালা ও খালে পানিপ্রবাহে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইএমওর তথ্য বলছে— জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তচ্যুত হয়ে রাজধানী ঢাকায় বাস করছে ৭ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। আর সারা দেশে এই সংখ্যা ৫০ লাখ। সবচেয়ে বেশি বাস্তচ্যুত মানুষের সংখ্যা চট্টগ্রামে, যা প্রায় ১২ লাখ। এদিকে ২০২৫ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)’-এর দেশব্যাপী প্রথম সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বের হতে পারে জিয়া হত্যার ভূরাজনীতির নেপথ্য সূত্র’। খবরে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সংঘটিত রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের নির্মম হত্যাকাণ্ড কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল না, বরং এটি ছিল দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতির এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সমীকরণের অংশ। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড এবং নেপথ্য কুশীলবদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ও রহস্যের পাহাড় জমেছে। তবে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক মামলার ৬ নম্বর পলাতক আসামি এবং তৎকালীন মেজর (অব:) মোজাফফর হোসেনের গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেফাজতে থাকা এই কর্মকর্তার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) চলা জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এমন কিছু তথ্য ও উপাত্ত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করছে। অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোজাফফরকে যথাযথভাবে এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের অন্তরালে থাকা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক রহস্যের জট পরিপূর্ণভাবে উন্মোচিত হতে পারে।
মোজাফফরের দীর্ঘ পলাতক জীবন এবং ভারতের আশ্রয় : মেজর (অব:) মোজাফফরের জবানবন্দী ও তার পলাতক জীবনের রুটম্যাপ বিশ্লেষণ করলে প্রথম যে প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো তার দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে অবস্থান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর এবং বিদ্রোহের মূল নায়ক মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের মৃত্যুর পর, জিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা সুপরিকল্পিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেন।
আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরপরই চট্টগ্রামের গহিন জঙ্গল এবং স্থানীয় কিছু দালালের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ছদ্মবেশে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীকালে থাইল্যান্ডেও কিছু সময় কাটান। একজন রাষ্ট্রপতির হত্যাকারী এবং সেনাবাহিনীর তালিকাভুক্ত ফেরারি আসামি হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তিনি ভারতের মাটিতে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই অবস্থান করতে পারলেন, তা নিয়ে গভীর ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বা কোনো বিশেষ মহলের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা ও অর্থায়ন ছাড়া একজন দাগি সামরিক আসামির পক্ষে এত বছর ধরে পরিচয় গোপন করে নিরাপদ আশ্রয় উপভোগ করা অসম্ভব। ফলে, তার এই দীর্ঘ ভারতীয় প্রবাস জীবনের পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করা গেলেই জিয়া হত্যাকাণ্ডের বৈশ্বিক চক্রান্তের সুতাগুলো বেরিয়ে আসবে।
জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ
জিয়া হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তত্ত্বটি বুঝতে হলে তৎকালীন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করা জরুরি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আনেন।
সার্ক গঠন ও আঞ্চলিক ভারসাম্য: জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের উদ্যোগ নেন। ভারতের তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা একে দেখছিলেন ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশগুলোকে একত্রিত করে এই অঞ্চলে ভারতীয় আধিপত্য বা ‘বিগ ব্রাদার’সুলভ প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হিসেবে।
ভারতবিরোধী শক্তির দমন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা: জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর (যেমন উলফা বা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট) জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন এবং ভারতের সীমান্তে বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) অবস্থান শক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক ব্লকে পরিবর্তন: সোভিয়েত-ভারত অক্ষের বাইরে গিয়ে জিয়াউর রহমান চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের (ওআইসি) সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এটি দিল্লির জন্য একটি বড় ভূরাজনৈতিক ধাক্কা ছিল, কারণ তারা বাংলাদেশকে তাদের একচ্ছত্র প্রভাব বলয়ের মধ্যে দেখতে চেয়েছিল।
বিশেষ করে, ফারাক্কা বাঁধের পানি বণ্টন সমস্যা আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা এবং দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ভারতের নৌবাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের শক্ত সামরিক অবস্থান তৎকালীন ভারতীয় সংস্থাপনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, জিয়ার এই স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী পররাষ্ট্রনীতিকে নস্যাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।
বণিক বার্তা
‘আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাঠজুড়ে নিখুঁত পাসের বুনন, ক্লান্তিহীন প্রেসিং আর আক্রমণের একটানা ঢেউ। স্প্যানিশ আর্মাডার এমন শৈল্পিক অথচ নির্মম ফুটবলের প্রদর্শনীতে আর্জেন্টিনাকে শ্বাসরুদ্ধ করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতল লুইস দে লা ফুয়েন্তের মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণ স্পেন।
নির্ধারিত সময়ে একমাত্র এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দেয়াল সমকক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বটে, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের নিকো উইলিয়ামসের বাড়িয়ে দেয়া হেডে ফেরান তোরেসের বাঁ পায়ের সেই মাপা শটটি যখন জালে জড়াল, তখনই লেখা হয়ে গেল ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্পেন। যেখানে মেসিদের স্বপ্নভঙ্গের বিপরীতে লেখা হলো স্প্যানিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের নতুন মহাকাব্য। রদ্রি-ইয়ামালরা যখন সোনালি ট্রফিটা শূন্যে উঁচিয়ে ধরলেন, সেই আলোকচ্ছটাতেই যেন ডানা মেলল স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন সাম্রাজ্য।
মাঝমাঠে স্পেনের আধিপত্যের প্রধান কারিগর রদ্রি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার ও আক্রমণের ভিত গড়ে দিয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আর স্পেনের গোলপোস্টে দুর্দান্ত নির্ভরতার পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস পেয়েছেন উনাই সিমন।
পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসিদের এমনভাবে বোতলবন্দি করে রেখেছিল স্প্যানিশরা যে উনাই সিমনকে পরীক্ষায় ফেলার মতো একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ ছিলেন বিচ্ছিন্ন, আর অন্য প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো, পেদ্রি ও তোরেসের গতিশীল ফুটবলে বারবার ভেঙে পড়েছে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিরোধ। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেডে নামানো বল বাঁ পায়ের জোরালো শটে জালে পাঠান তোরেস। যে গোল শুধু ফাইনালের ফল নির্ধারণ করেনি, দিয়েছে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতিও। এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে ১০ জনে নেমে যাওয়া আর্জেন্টিনা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দাপট, নিয়ন্ত্রণ আর সৌন্দর্যের ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে নিঃশেষ করে দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের মুকুট পরল স্পেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের লড়াইয়ে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল স্পেন। বলের দখল, পাসের গতি, প্রেসিং ও আক্রমণ তৈরিতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা আর্জেন্টিনাকে প্রায় পুরো সময় নিজেদের অর্ধে আটকে রেখেছিল। প্রথম ৪৯ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে শট নিতে না পারা দ্বিতীয় দল আর্জেন্টিনা; এর আগে ২০২২ সালের ফাইনালে একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল ফ্রান্স।
শুরুর পাঁচ মিনিটেই আর্জেন্টিনার রক্ষণে সতর্কবার্তা পাঠান লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে তার শট লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে লেগে গতি হারালে বল ধরে নেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এর পরও ইয়ামালের গতি ও বল নিয়ন্ত্রণে বারবার বিপাকে পড়েছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ১৬ মিনিটে তার নিচু ক্রস ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। ইয়ামাল বল পেলেই একাধিক খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ধরেছে, প্রয়োজনে ফাউল করেও থামিয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ষষ্ঠ মিনিটে একটি থ্রু বল ধরে মেসির আগে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করেন উনাই সিমন। এরপর আর স্পেনের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৩৪ মিনিটে বাম প্রান্তে ফ্রি কিক পেয়েও মেসি সরাসরি বক্সে বল না তুলে ছোট পাস খেলেন; স্পেন দ্রুত বলের দখল ফিরিয়ে নেয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেনের চাপ আরো বাড়ে। ৩৯ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের শট ঠেকিয়ে দেন এমি মার্টিনেজ। পরের মিনিটেই স্প্যানিশ প্রতি-আক্রমণ থামাতে গিয়ে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো।
আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে বিরতির ঠিক আগে। ৪৪ মিনিটে ঊরুর সমস্যায় মাঠে বসে পড়েন লিসান্দ্রো। নিজেই বদলির ইঙ্গিত দিলে তাকে তুলে নিকোলাস ওটামেন্দিকে নামান স্কালোনি। হতাশ লিসান্দ্রো চোখেমুখে যন্ত্রণা নিয়েই মাঠ ছাড়েন। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা রক্ষণে টিকে থেকেছে, কিন্তু আক্রমণে কার্যত অস্তিত্বহীন ছিল।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘লিবিয়ার গেমঘরের শিশুর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাধিকা (ছদ্মনাম), যার বয়স আনুমানিক ৩২ বছর স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে গোছানো সুখের সংসার তার। সন্তানের জীবন রাঙাতে দেশ ছাড়েন তার স্বামী। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থান করছেন তিনি। এরই মধ্যে গ্রামের এক দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে রাধিকার পরিবার। তাদের (দালালচক্রের) চোখে ইতালির উন্নত ও রঙিন জীবনের স্বপ্ন দেখে স্বামী-স্ত্রী হারিয়েছে সব। ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগী রাধিকা হারিয়েছেন স্বামী-সন্তান। তবে পেয়েছেন লিবিয়া গেমঘরের (অবৈধভাবে ইতালি নেওয়ার সময় লিবিয়াতে যেখানে রাখা হয়) এক ফুটফুটে শিশুকে। সেই সন্তানের বাবার পরিচয় নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাধিকা। শুধু তিনিই নন, তার মতো এমন আরও তিন তরুণীর গল্পও গা শিউরে ওঠার মতো।
মানব পাচার নিয়ে কাজ করা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, উচ্চাভিলাষী জীবনের মোহে পড়ে পুরুষদের পাশাপাশি এখন নারীরাও চোরাগলিতে পড়ছে। বাংলাদেশ থেকে একটি চক্রের মাধ্যেমে পুরুষের পাশাপাশি এখন নারীরাও ইতালি যাওয়ার জন্য গেমঘরে যাচ্ছে। তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত একজন নারীও সফলভাবে ইতালিতে পৌঁছাতে পারেননি। লিবিয়ার গেমঘর থেকেই সিআইডি কর্মকর্তাদের খোঁজ পান এই নারী। সেই সূত্র ধরেই আসেন রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি সদরদপ্তরে। সেখানে শোনান ইতালি যাওয়ার পথে পথে জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা।
টাঙ্গাইলের রাধিকা ও তার প্রবাসী স্বামীকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেন দালালচক্রের সদস্য স্থানীয় সুমন ও সাগর। তারা জানায়, বাংলাদেশ থেকে তাকে নেওয়ার পর পথে তার স্বামীকেও সঙ্গে নেওয়া হবে জানানো হয়। তারপর দুজনকে একসঙ্গে ইতালিতে গেম দেওয়া হবে। মিষ্টি কথায় ঘরছাড়া করার পর বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। চক্রের সদস্যদের কথা মতো, তাদের কাছে পাসপোর্ট দেন এই নারী। স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে গেম দিতে চুক্তি হয় ৩২ লাখ টাকায়। পরে বিশেষ ছাড়ে ৩০ লাখ টাকা করে চক্রটি।
ভুক্তভোগী রাধিকার ভাষ্য মতে, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাকে দুবাই ভিসায় ঘরছাড়া করে চক্রটি। দুবাই পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে বের না করায় পরিবারের লোকজন যোগাযোগ শুরু করে দালালদের সঙ্গে। তারা জানায়, তাকে কোথাও যাওয়া লাগবে না, এখনই ইতালিতে ফ্লাইট করে দেওয়া হবে। তারা বলে, ভালো সুযোগ আসছে আজকে আপনাকে এই ফ্লাইটে ইতালিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আর আপনার স্বামীকে পরের ফ্লাইটে নেওয়া হবে। এ খবর শোনার পর বাড়ি থেকে স্বজনরা চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তারা জানায় কোনো সমস্যা নেই। তাকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে। ওই সময় দুবাই থাকা অবস্থায় পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে বিকাশ ও ব্যাংক হিসাব নম্বরে ১৫ লাখ টাকা নেয় সুমন ও সাগর। বাকি টাকা ও তার স্বামীকে ইতালিতে নেওয়া হবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাধিকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চক্রটি ইতালি ফ্লাই করার কথা বলে মিসরে নেয়। বিমান থেকে নামার পর আমার গলা শুকিয়ে যায়। সেখানে রাস্তার ওপর সবাইকে বসিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে নেয় তারা। ওই সময় বাংলাদেশ এবং দুবাই থেকে দেড় শতাধিক লোককে একসঙ্গে মিসরে নেয় চক্রটি। এই দলে চারজন নারীও ছিলেন। তাদের মধ্যে এক হতভাগা আমি। মিসর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শেষ করার পর বের হয়ে দালাল সুমন ও সাগরকে ফোন করে কোথায় নিয়ে এলেন, জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘ওই দিকে সমস্যা থাকায় সরাসরি ফ্লাইট করাতে পারিনি, এই দিক দিয়ে যেতে হবে। এখানে ফ্যামিলি বোটে দিয়ে দেওয়া হবে, কোনো সমস্যা হবে না। এখন মিসর থেকে লিবিয়ার বেনগাজি চলে আসেন। সেখানে আমার লোক আছে, যে আপনাকে রিসিভ (গ্রহণ) করবে।’
পরে তারা সবাইকে আবার মিসর থেকে ইমিগ্রেশন করিয়ে বিমানযোগে লিবিয়ার বেনগাজিতে নেয়। সেখান থেকে সবাইকে দলে দলে বিভিন্ন গাড়িতে ভাগ করে তুলে দেওয়া হয়। রাধিকা বলেন, ‘আর আমাকে এক লিবিয়ান গাড়িতে করে বিমানবন্দর থেকে নেয়। আর বাকি তিন মেয়েকে অন্য তিনটি গাড়িতে পুরুষদের সঙ্গে দেওয়া হয়। দুই দিন গাড়িতেই ছিলাম। তারপর ত্রিপলিতে পৌঁছাই। পৌঁছানোর পর সুমন-সাগর চক্র আমাকে বিক্রমপুরের লৌহজং থানার সাইফুল (পাসপোর্টে নাম টুটুল) নামের আরেকজনের কাছে পাঠিয়ে দেয়।’
