দেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র সাকিব আল হাসান দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ছায়ার বাইরে। তার বিরুদ্ধে থাকা বর্তমান আইনি অভিযোগগুলো নিয়ে এখন সর্বত্র সরগরম আলোচনা। ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাকে আর লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি বর্তমানে আইনি জটিলতার কারণে তিনি দেশের মাটিতেও ফিরতে পারেননি। তবে সাকিবের দেশে ফেরার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা ও আলোচনা এখন চলমান। সমসাময়িক এই সংকটকাল এবং সাকিবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি সাকিবের ক্রিকেটীয় মেধার প্রশংসা করলেও তার সক্রিয় রাজনীতিতে জড়ানোকে একটি বড় সাময়িক বিচ্যুতি হিসেবে মনে করেন। পাইলটের মতে, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা সরাসরি রাজনীতিতে জড়ালে সাধারণ ভক্তদের আবেগ ও সমর্থনে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়, যা দলের জন্য কাম্য নয়।
সাকিবের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত অনুরাগ ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি সাকিবের বড় ভক্ত। আমি সবসময় মনে করি মানুষ মাত্রই ভুল। সে হয়তো খেলা অবস্থায় কোনো একটা দলের সঙ্গে জড়িত হয়েছিল, হয়তো সে ছয় মাসের জন্য একটা ভুল করেছিল। কিন্তু আমি মনে করি যেকোনো খেলোয়াড়েরই যখন সে জাতীয় দলে খেলবে, তার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত না।’ সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলা নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। তার মতে, প্রবাসে অবস্থানকালে সাকিবের মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগটি কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত হতে পারে না।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রায়ই ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হওয়ার সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্ত দাবি করেন। পাইলট মনে করেন, সাকিবের মতো একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি হেনস্তায় ফেলা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। এই স্পর্শকাতর মামলাটির একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সম্মানজনক সমাধানের জন্য তিনি বর্তমান সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাকিবের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি যেন অত্যন্ত সম্মানজনক হয়, সেটিই এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার প্রধান চাওয়া। সাকিবের মতো মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
সাবেক এই সফল অধিনায়কের প্রত্যাশা, সকল আইনি জটিলতা কাটিয়ে সাকিব আবারও বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে সসম্মানে মাঠ থেকে বিদায় নেবেন। পাইলট আরও বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মূলত সমগ্র দেশের সম্পদ। তাই তাদের যেকোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের অগাধ আবেগ, ভালোবাসা এবং ঐক্য সবসময় অটুট থাকবে। সাকিবের মতো নাম্বার ওয়ান খেলোয়াড়কে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে মাঠ থেকে বিদায় জানানোই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটের স্বার্থে এবং সাকিবের অনন্য অবদানের কথা বিবেচনা করে একটি ইতিবাচক সমাধান আসা জরুরি। সাকিবকে কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখলেই দেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

BAD MOUTH
৩ মাস আগেSakib should return and surrender to the authorities. Law will take its own course. No special treatment.