শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে পরিচয় শনাক্ত ৫৮

শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে পরিচয় শনাক্ত ৫৮

ফন্ট সাইজ:

২০১৩ সালের ৫ই মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ৬১ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গতকাল এসব ঘটনায় করা তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৈঠকে অংশ নেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিস, মুফতি জুবায়ের আহমেদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নারকীয় ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। এজন্য হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো। আশা করছি, ২১শে জুলাই এটি ফরমাল চার্জ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে পারবো। আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে ওই ঘটনাটি ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ। এটি ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ।

আসামিদের তালিকায় কারা রয়েছেন জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিবেদনটি খসড়া। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিদের তালিকা আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, বিজিবি প্রধানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খসড়া প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো। তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত ইসলামের নেতারা এ ঘটনার জ্বলন্ত বা প্রত্যক্ষ সাক্ষী। এ মামলায় আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন- একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, সাবেক আইজিপি, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
ব্রিফিংয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক জানান, শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন- নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক তথ্য এখনো অনুপস্থিত। তার মতে, সেসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিহতদের মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে তাদের কাছে সংরক্ষিত প্রামাণ্য তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন