নির্বাচনে কমিশনে (ইসি) আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। ভোটের বছরে গতবারের তুলনায় বিএনপি’র আয় ও ব্যয়- দুটোই বেড়েছে। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধিদল ইসি’র সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক বিবরণী জমা দেয়।
ইসিতে হিসাব জমা দিয়ে রিজভী জানান, ২০২৫ সালে বিএনপি’র আয় করেছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা; আর ব্যয় করেছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। রিজভী আরও জানান, প্রারম্ভিক স্থিতি ছিল ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। বর্তমানে দলের ব্যাংকে মোট গচ্ছিত রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া, হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সবমিলিয়ে বিএনপি’র তহবিলে সর্বমোট ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৬০ টাকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, আগের বছর ২০২৪ সালে বিএনপি আয় দেখিয়েছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা; ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা। আয় ও ব্যয়ের খাতের বিষয়ে বিএনপি’র কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নির্বাহী কমিটির চাঁদা, বই-পুস্তক বিক্রয়, প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রয়, মনোনয়ন ফরম বিক্রয়, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান এবং ব্যাংক থেকে অর্জিত সুদসহ এ আয় হয়েছে।
আর দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, বিভিন্ন বন্যাকবলিত জেলায় ত্রাণ বিতরণ, পোস্টার-লিফলেট ছাপানো, দলীয় প্রয়োজনে গাড়ি কেনা, বিভিন্ন জনসভায় খরচ, আলোচনা সভায় হলভাড়া সহ অন্যান্য খরচ, পত্রিকায় ক্রোড়পত্র ছাপানো, রমজানের ইফতার মাহফিল এবং অফিসিয়াল কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তা প্রভৃতি খাতে ব্যয় হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট ইসিতে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পর পর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে ইসি চাইলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।
