সিদ্ধিরগঞ্জে পুত্র হত্যা মামলার বাদী মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধ পিতাকেও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুইদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৭ই জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার ‘আহসান ভিলা (মিয়া বাড়ি)’র সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলুল হকের বাড়ি জামালপুর মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে। তিনি গোদনাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি প্রতিবেশি এক নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে থাপ্পড় দিয়ে ঝগড়া থামাতে বলেন। একইভাবে ফজলুল হকও বিবাদে না জড়ানোর পরামর্শ দেন। পরে নোবেল ফোন করে আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে ফজলুল হককে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে ১৮ই জুলাই তিনি বাসায় ফিরে যান। তবে রোববার সকালে ভাড়া বাসায় হঠাৎ রক্তবমি করলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
নিহতের মেয়ে ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। সেই মামলার আসামিরা মামলা তুলে নেয়া বা আপস করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল শেখ ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায়, পরিবারের সন্দেহ এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মো. রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নূর মোহাম্মদ এরফান
১১ ঘন্টা আগেবিচার কোথায় ? ছেলে হত্যার যথাযথ বিচার হলে হয়তো পিতার পরিনতি এমন হতো না।