জাফলং দখলে ৮ ভূমিখেকো

তদন্ত রিপোর্ট

জাফলং দখলে ৮ ভূমিখেকো

ফন্ট সাইজ:

জাফলং কোয়ারি থেকে পর্যটন সর্বত্রই তাদের নিয়ন্ত্রণ। সব দখলে নেয়ার প্রবণতা অনেক আগে থেকেই। তাদের রোষানলে পড়ে অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব। অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট গড়ে জাফলং পর্যটন এলাকার সরকারি ভূমি দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছেন আবাসিক হোটেল, খাবার রেস্তরাঁ ও কসমেটিকসের দোকান। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আর সেই তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে, ভূমি লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। যে এলাকায় গিয়ে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য কোনো জায়গা মিলে না সেখানে ভূমিখেকো চক্রের ওই ৮ সদস্য দখলে রেখেছে প্রায় ৪ একরের উপরে ভূমি। আর এসব ভূমিতে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে মাসে কোটি কোটি টাকার আয় করছে। গত বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই স্পটে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলেন। যারা বহুতল ভবন বানিয়েছেন তাদেরকে জমি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গোয়াইনঘাটের সাবেক এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দখলেও বেশ কিছু ভূমি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে জাফলং পর্যটন স্পটের ভূমি বেদখল নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করে। গত ২৪শে জুন ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম তদন্ত প্রতিবেদনটি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে জমা দেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিবেদনটি ইউএনও’র কাছে পাঠান। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৩ই জুলাই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে পাঠিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার সরকারি খাসজমির একটি অংশ বিজিবি অধিগ্রহণ করলেও অবশিষ্ট জমির প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর এলাকা বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। প্রতিবেদনে আটজন দখলদারের নাম ও সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ৫০টি দোকানপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে জমি উদ্ধারে পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন- গোয়াইনঘাটের নলজুরী এলাকার আবদুল কুদ্দুছ ও ফারুক আহমদ, লাখেরপাড় এলাকার আলম বখত, বাবুল বখত, রায়হান, উমর আলী, মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদ ও জৈন্তাপুরের কানিকপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান। প্রশাসনের তথ্য মতে; জাফলংয়ের বিজিবি ক্যাম্পের পাশে পর্যটনস্পট গড়ে ওঠার প্রথম থেকেই নলজুড়ি এলাকার আব্দুল কুদ্দুছ জাফলং ভিউ’র নামে সরকারি জমি দখলে নেন। ওখানে এখন তিনি আবাসিক হোটেল ও খাবার দোকান করেছেন।

প্রথম থেকেই জাফলংয়ে জাফলং গ্রিন নামে একটি বহুতল আবাসিক হোটেল গড়ে তোলেন আলোচিত বাবলু বখত। সঙ্গে তার ভাই আলম বখতও। দাপট দেখিয়েই তারা ওই এলাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভূমি জালিয়াতির ঘটনায় বাবলু বখত বছর খানেক আগে কারাবরণও করেছে। বর্তমানে জামিনে রয়েছে বলে জানান তারা। জাফলংয়ের আনোয়ার হোসেন জুবের প্রায় দেড় বিঘা জমি দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্যারিস হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। প্রশাসন কয়েক দফা তার কবল থেকে ভূমি রক্ষায় অভিযানও চালিয়েছে। জৈন্তাপুরের নুরুজ্জামান জৈন্তা ভ্যালি ও রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া, রায়হান কসমেটিকস ও উমর আলী রেস্টুরেন্ট দিয়ে ভূমি দখলে রেখেছেন।

নজরুল ইসলাম

৯ ঘন্টা আগে

এই সব ভূমি খেকোরা সবাই সরকারি দলের লোক। দেখি সরকার এদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়।

মন্তব্য করুন